ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী গানে চমক কুমোরটুলি পার্কের! মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে সমাজের কোন গভীর ক্ষত?

শতবর্ষে পা দেওয়া কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী সৃষ্টি এবার উঠে আসছে শারদোৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে। বাংলা গানে তাঁর অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবছর ৩৪তম বর্ষে এক অভিনব ও মননশীল থিম নিয়ে হাজির হচ্ছে কলকাতার অন্যতম প্রধান পুজো কমিটি কুমোরটুলি পার্ক সর্বজনীন। ভূপেনদার অমর গান—’গঙ্গা তুমি ও গঙ্গা বইছ কেন’—এর অন্তর্নিহিত প্রতিবাদী সুর ও সামাজিক বার্তাকেই এবার মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তুলছেন বিশিষ্ট শিল্পী সুবল পাল।
সামাজিক বৈষম্য ও প্রতিবাদের রূপায়ণ
উদ্যোক্তাদের মতে, এই গানটি নিছক কোনো নদীকে নিয়ে লেখা সাধারণ কোনো পঙ্ক্তি নয়; এটি মানবসভ্যতার বৈষম্য, শোষণ, দারিদ্র্য এবং ইতিহাসের কষ্টের বিরুদ্ধে এক গভীর আর্তনাদ ও প্রতিবাদ। কুমোরটুলি পার্ক সর্বজনীনের সম্পাদক অনুপম দাস জানান, গঙ্গাকে এখানে একটি জীবন্ত সত্ত্বা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে, যার বুক চিরে বয়ে চলেছে মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, যুদ্ধ, অত্যাচার এবং ক্ষুধার ইতিহাস। একদিকে সমাজের আলোর ঝলকানি আর অন্যদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ—এই দুইয়ের নীরব সাক্ষী গঙ্গা।
মণ্ডপ সজ্জায় থাকছে এক অন্য অভিজ্ঞতা
এবারের পুজো মণ্ডপের অন্দরমহলে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীরা এক অনন্য অনুভূতির মুখোমুখি হবেন। মণ্ডপের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দুই পাশে ফুটিয়ে তোলা হবে গঙ্গার পাড়, ঘাট, মন্দির ও জনপদের রূপ। মণ্ডপের দু’পাশে জলরাশির আবহ এবং মূল মন্দির চত্বরের আদলে তৈরি প্রতিমা দর্শনার্থীদের মনে এক গভীর আত্মসমীক্ষার জন্ম দেবে। অসুরদলনী দেবী দুর্গা এখানে কেবল পূজিত হবেন না, বরং তিনি হয়ে উঠবেন মানবতার প্রতীক, যা আধুনিক সভ্যতার মানবিকতা ও প্রকৃতির প্রতি আমাদের অবহেলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে ধরবে।