শাড়ি পরতেই বদলে গেল মানুষের চাউনি! রাতের রাস্তায় যুবকের এই অদ্ভুত পরীক্ষাই ফাঁস করল ভয়ংকর সত্যি

দিল্লি-এনসিআর কিংবা দেশের বিভিন্ন মেগাসিটিতে নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন নতুন কিছু নয়। কিন্তু রাতের অন্ধকারে একা রাস্তায় বের হলে নারীদের ঠিক কী ধরনের মানসিক ও শারীরিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তা উপলব্ধি করতে এক অভিনব পথ বেছে নিলেন এক যুবক। শাড়ি, পরচুলা ও মেকআপ পরে নারীর ছদ্মবেশে রাতের নয়ডার রাস্তায় নেমে পড়েছিলেন তিনি। আর সেই স্ট্রিং অপারেশনের অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে।

ইনস্টাগ্রামে @dhiraj_sharmaa04 নামের অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, পুরোপুরি নারীবেশ ধারণ করে ধীরেসুস্থে একা রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেন ওই যুবক। আর রাস্তায় নামার মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরুষদের লোলুপ দৃষ্টি এবং অসংযত আচরণ তাঁর নজরে আসতে শুরু করে।

রাতের রাস্তায় ঠিক কীসের মুখোমুখি হতে হলো?

ভিডিওটিতে দেখা যায়, যুবকটি সামান্য সামনে এগোতেই একটি ট্যাক্সি তাঁর কাছে এসে থামে এবং চালক একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর একটি চারচাকা গাড়ি তাঁর সামনে এসে ব্রেক কষে এবং বারবার তাঁকে গাড়িতে ওঠার জন্য জোরাজুরি করতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই যুবক দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও গাড়িটি বেশ কিছুটা পথ তাঁর পিছু ধাওয়া করে।

এরপর কিছুটা দূরে তাঁর এক বন্ধু বাইক নিয়ে এলে, নারীর বেশেই সেই বাইকে ওঠার চেষ্টা করেন তিনি। ঠিক সেই সময়ই আগের সেই ক্যাব বা ট্যাক্সিটি আবারও তাঁর দিকে এগিয়ে আসে। পুরো অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই যুবক জানান, একজন নারী হিসেবে রাতের অন্ধকারে একা রাস্তায় হাঁটা কতটা অস্বস্তিকর, ভীতিকর এবং দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি করতে পারে, তা তিনি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন।

পোশাক নিয়ে সমাজের চিরাচরিত যুক্তিতে বড় আঘাত

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন, ওই যুবক তো আদতে পুরুষ ছিলেন এবং তিনি শাড়ি পরেছিলেন—তা সত্ত্বেও কেন তাঁকে এভাবে লোলুপ নজরের শিকার হতে হলো? এই ঘটনাটি আরও একবার স্পষ্ট করে দিল যে, নারীদের পোশাক বা শালীনতা নিয়ে সমাজ যতই প্রশ্ন তুলুক না কেন, অপরাধীদের আসল মানসিকতা যে কতটা বিকৃত, তা এই ধরনের ঘটনা থেকেই প্রমাণিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *