লস্কর-জইশ থেকে শুরু করে মাদ্রাসায় ফান্ডিং! বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিল আন্তর্জাতিক মহল

আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও একবার ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা হিসেবে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ল পাকিস্তান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পাকিস্তানের বিতর্কিত বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে একহাত নিলেন বিশ্বমানের বিশেষজ্ঞরা।

‘ইন্টারফেইথ ইন্টারন্যাশনাল’-এর উদ্যোগে আয়োজিত “ফাইট এগেইনস্ট টেররিজম অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস” শীর্ষক এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সাইপ্রাস, ভিয়েতনাম, বেলজিয়াম এবং তাঞ্জানিয়ার মতো একাধিক দেশের প্রতিনিধি ও গবেষকরা যোগ দেন। অনুষ্ঠানের সূচনা করে সেক্রেটারি জেনারেল বিরো দিয়াওয়ারা জানান, সন্ত্রাসবাদের বলি হওয়া মানুষদের কষ্টকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সুশীল সমাজের দায়িত্ব স্মরণ করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিনেটওয়ার্ক নিয়ে কড়া বার্তা বৈঠকে উপস্থিত সাংবাদিক ও সম্পাদক গ্যারি কার্টরাইট কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন পাকিস্তানকে। তিনি জানান, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP), লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোকে অবাধে তহবিল সংগ্রহ এবং লোক নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যার জেরে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা থেকে শুরু করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে গোটা বিশ্বেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি, পাকিস্তানের মাদ্রাসাগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাহায্যপ্রাপ্ত প্রকল্পের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি এবং সন্ত্রাসদমনের শর্ত যথাযথভাবে মানছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ না দেখা পর্যন্ত ইইউ-এর ‘জিএসপি প্লাস’ বাণিজ্য সুবিধা স্থগিত রাখার জোরালো দাবি জানান কার্টরাইট।

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস প্রসঙ্গ গ্রিক পার্লামেন্টের সদস্য জর্জিওস মানউস পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের করুণ অবস্থার চিত্র তুলে ধরেন। ব্লাসফেমি আইনের অপব্যবহার, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং ২০২৩ সালের জারানওয়ালায় গির্জায় হামলার মতো নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট জানান, পাকিস্তানকে কেবল সন্ত্রাসপীড়িত দেশ হিসেবে দেখলে ভুল হবে, বরং এটি এমন এক দেশ যেখান থেকে একাধিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন পরিচালিত হয়।

অন্যদিকে, অধ্যাপক কে. ওয়ারিকুর উপস্থাপিত বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট দীর্ঘস্থায়ী সন্ত্রাসবাদের দিকটি তুলে ধরা হয়। সন্ত্রাসবাদের মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে জঙ্গি ও তাদের মদতদাতাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে কঠোর ও সুসংগঠিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *