প্রতিটি মেয়েরই কি এমন গা শিউরে ওঠা গল্প আছে? যুবতীর শেয়ার করা তিন ভয়ংকর অভিজ্ঞতা কাঁপিয়ে দিল নেটদুনিয়া

সমাজের প্রতি পদে পদে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা উপদেশ দেওয়া হলেও আসল প্রশ্নটা থেকেই যায়—এই ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্তি মিলবে কবে? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের জীবনের তিনটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও ভয়ের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে নেটদুনিয়ায় ঝড় তুললেন এক নারী। তাঁর এই ভিডিও সামনে আসার পরই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারীরা জানিয়েছেন, এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি কমবেশি প্রায় তাঁকেও হতে হয়েছে।

যে তিনটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা শেয়ার করেছেন ওই নারী

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে যুবতী জানিয়েছেন, পুরুষদের কিছু আচরণ তাঁর মনে এমন গভীর ভয়ের সৃষ্টি করেছে যে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় আতঙ্কিত থাকেন। তিনি যে তিনটি প্রধান ঘটনার উল্লেখ করেছেন:

  • ভোরের ক্যাব চালকের কাণ্ড: প্রথম ঘটনাটি কিছুদিন আগের, ভোর ৬টার। গাজিয়াবাদ থেকে গুরুগ্রাম যাওয়ার জন্য তিনি একটি ক্যাব বুক করেছিলেন। প্রথম ক্যাবটি এগোয়নি দেখে তিনি তা বাতিল করে অন্য একটি বুক করেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে প্রথম ক্যাবের চালক সোজা তাঁর বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হন এবং তাঁকে গেট খুলে বাইরে আসতে জোর করতে থাকেন। যুবতী সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি ক্যাব নেবেন না এবং ভাড়াও মিটিয়ে দেবেন, কিন্তু চালক দরজা খোলার জন্য বারবার চাপ দিতে থাকেন। ভয়ে ঘরের ভেতর কাঁপতে থাকা ওই নারী শেষ পর্যন্ত গুরুগ্রাম যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হন। সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় ছিল, চালক তাঁর বাড়ি ও মুখ চিনে ফেলেছিলেন।

  • পিজি-র বাইরের আতঙ্ক: দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০১৯ সালের, যখন তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে একটি পিজি-তে থাকতেন। এক রাতে তাঁর বন্ধুরা আতঙ্কিত হয়ে ফিরে এসে দ্রুত দরজা বন্ধ করতে বলেন। তিনি বাইরে দেখেন তিনজন লোক বাইক ফেলে তাঁদের পিজি-র দিকে দৌড়ে আসছে। সেই ভয়ের পরিবেশ আজও তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে।

  • পরীক্ষার হলের অস্বস্তি: তৃতীয় ঘটনাটি সাম্প্রতিক, যখন তিনি লখনউতে নেট (NET) পরীক্ষা দিতে যান। পরীক্ষার সময় এক কোর্ডিনেটর তাঁর কাগজপত্র দেখার সময় আসন নম্বর ‘৬৯’ নিয়ে একটি আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর মন্তব্য করেন। ওই নারীর মতে, তিনি কাউকে কোনো রকম ভুল ইঙ্গিত না দেওয়া সত্ত্বেও ওই মন্তব্য তাঁর মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়। এই উদ্বেগের জেরে তিনি পরীক্ষায় নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ হারাতে বাধ্য হন এবং একটি প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারেননি।

নারীদের নিরাপত্তা এক চিরন্তন যুদ্ধ

ওই নারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি কাউকে কাঠগড়ায় তুলছেন না, বরং এই ছোট ছোট মানসিক হেনস্থার ঘটনাগুলো কীভাবে একজন নারীর মনোবল ও আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়, সেটাই তিনি সকলের সামনে তুলে ধরেছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর কমেন্ট বক্সে উপচে পড়েছে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া। নেটিজেনদের বড় অংশই একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, বয়স বা সময় যাই হোক না কেন, প্রতিটি মেয়েরই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এমন ভয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। শুধুমাত্র নিরাপদ বোধ করার জন্য একজন নারীকে কেন সবসময় তটস্থ থাকতে হবে, সেই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *