মদের দোকানের নিয়মে মেগা বদল আনল রাজ্য সরকার! স্কুল-হাসপাতাল থেকে দূরত্ব নিয়ে জারি হলো কঠোর নির্দেশিকা!

রাজ্যের খুচরো মদ বিক্রির লাইসেন্স (Liquor License) এবং আবগারি নীতিতে একপ্রকার বড়সড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। বিশেষ করে মদের দোকানের লাইসেন্সবিধি, বন্ধ থাকা দোকান পুনরায় চালু করার নতুন ব্যবস্থা এবং পুরসভা বা শহরাঞ্চলে দোকানগুলির দূরত্বের মাপকাঠিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নতুন ও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

নির্দেশিকায় কী কী বড় পরিবর্তন আনা হলো?
১. ‘নতুন’ ও ‘বিদ্যমান’ সাইটের সংজ্ঞা স্পষ্টকরণ: নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট এলাকাকে ‘নতুন সাইট’ (New Site) এবং কোনটিকে ‘বিদ্যমান সাইট’ (Existing Site) হিসেবে গণ্য করা হবে, তা নতুন নির্দেশিকায় অত্যন্ত স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

২. বন্ধ দোকান চালুর সুযোগ: অতীতে বিদেশি মদের (FL) যে দোকানগুলির লাইসেন্স বাতিল হয়েছিল, প্রত্যাহার করা হয়েছিল কিংবা লাইসেন্স সমর্পণ করার কারণে যেসব মদের দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেই সমস্ত বন্ধ জায়গাকে পুনরায় নতুন লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে।

৩. দূরত্বের সীমা বৃদ্ধি: শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বদল আনা হয়েছে দূরত্বের নিয়মে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান এবং হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মদের দোকানের ন্যূনতম দূরত্ব ১,০০০ ফুট (প্রায় ৩০৫ মিটার) থেকে বাড়িয়ে সোজা ৫০০ মিটার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ, দূরত্বের এই বর্ধিত নিয়মটি শুধুমাত্র নতুন লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে; ইতিমধ্যেই চালু বা রানিং থাকা দোকানগুলি এই নিয়মের আওতাভুক্ত হবে না।

৪. ‘অন’ শপের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়: বিদেশি মদের ‘অন’ শপের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে যে, ৪(এইচ) থেকে ৪(কে) শ্রেণির লাইসেন্সে চলা কোনো এফএল ‘অন’ শপকে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে সমস্ত ধরনের মদ বিক্রির উপযোগী ৪(পি) লাইসেন্সের সাইট হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, এর ফলে আগে থেকেই মদের ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট জায়গাকে নতুন শ্রেণির লাইসেন্সের আওতায় কাজে লাগানোর সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হলো।

৫. পুরনো আবেদন নিষ্পত্তি ও রাজস্ব বৃদ্ধি: নতুন এই বিধি সংশোধনের আগে যে সমস্ত আবেদনপত্র জমা পড়েছিল, সেগুলির নিষ্পত্তিও এবার নতুন নিয়ম মেনেই করা হবে। তাছাড়া, ৪(পি) শ্রেণির নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ৪(এইচ) থেকে ৪(কে) শ্রেণির যে কোনো এফএল ‘অন’ শপ যদি সেই একই জায়গা থেকে নতুন ৪(পি) লাইসেন্সে চালানো হয়, তবে তাকে ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবেই ধরা হবে। সরকারের এই সমস্ত নীতিগত পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে আবগারি দপ্তর থেকে রাজ্যের রাজস্ব বা রেভিনিউ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলেই প্রবল আশা দেখছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *