পুলিশি জেরার মুখে জোর করে স্বীকারোক্তি? সম্ভলকাণ্ডে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা শীর্ষ আদালতের!

২০২৪ সালের উত্তরপ্রদেশের সম্ভল হিংসার ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে ধৃত মোল্লা আফরোজের বিরুদ্ধে জারি হওয়া জাতীয় সুরক্ষা আইন বা এনএসএ (NSA) এর আটকের নির্দেশ খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায় বাতিল করে এই নির্দেশ দেন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন দেওয়া স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের কঠোর প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের নির্দেশ দেওয়া আইনসম্মত নয়। সেই সঙ্গে অবৈধভাবে আটকের নির্দেশ দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশ সরকারকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশি স্বীকারোক্তি ও আইনি প্রশ্ন

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানির সময় বিচারপতিদের বেঞ্চ পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির আইনগত ভিত্তি ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছিল। আদালতের মূল প্রশ্ন ছিল, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন করা কোনো স্বীকারোক্তি কি কাউকে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে পাঠানোর মতো যথেষ্ট বা ‘যথাযথ কারণ’ তৈরি করতে পারে? এদিন সেই আইনি যুক্তির ভিত্তিতেই এই বড় রায় ঘোষণা করল শীর্ষ আদালত।

সম্ভল হিংসার প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশের সম্বলের শাহি জামা মসজিদে আদালতের নির্দেশে সার্ভের কাজ চলাকালীন ভয়াবহ হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সংঘর্ষে চারজন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ওই ঘটনার প্রায় ৫৪ দিন পর মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মোল্লা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে তাঁর বিরুদ্ধে এনএসএ বা জাতীয় সুরক্ষা আইন প্রয়োগ করা হয়। তবে এদিনের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই পদক্ষেপ ধাক্কা খাওয়ায় রাজ্য রাজনীতি ও আইনি মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *