সেপ্টেম্বর ফুরোতেই কাঁপছে দিল্লি! ২৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে হঠাৎ জাঁকিয়ে শীত? আসল সত্যিটা জানলে চমকে যাবেন

উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে লাগাতার বৃষ্টিপাত এবং মেঘলা আকাশের জেরে হঠাৎ করেই অনেকটা কমে গেছে তাপমাত্রা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও আইএমডি (IMD)-র তথ্য অনুযায়ী, গত বেশ কয়েক দিন ধরেই দিল্লি, মুম্বাই ও কলকাতার মতো একাধিক রাজ্যে ভোররাতে আচমকা শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী দিল্লিতে তাপমাত্রা একলাফে নেমে এসেছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গত ২৫ বছরের মধ্যে এটি সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং ২০০১ সালের পর সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। আর এই হঠাৎ আবহাওয়া বদল ঘিরেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—তবে কি এ বছর শীতকাল একটু আগেই হাজির হচ্ছে? আর এর পেছনে কি হাত রয়েছে আলোচিত ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতির?

কেন এই অপ্রত্যাশিত ঠান্ডা?
বিজনেস টুডে-তে প্রকাশিত এক আবহাওয়া বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর বিদায় লগ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি থেকেই মূলত এই শক্তি সঞ্চয় হয়েছে। এই নিম্নচাপের জেরে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে শুরু করে তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে ঝোড়ো বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তরাখণ্ডেও এর প্রভাব স্পষ্ট। একটানা মেঘলা আকাশ, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং অবিরাম বৃষ্টির কারণে দিনের বেলার পারদ অনেকটাই নিচে নেমে গেছে। যার জেরে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এখন রাতে বেশ ভালোই ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।

এল নিনোর কি কোনও প্রভাব রয়েছে?
দিল্লিতে বা দেশের অন্যান্য প্রান্তে সেপ্টেম্বরের এই ঠান্ডা আমেজের জন্য অনেকেই এল নিনোকে দায়ী করছেন। তবে আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই তাপমাত্রা হ্রাসকে সরাসরি এল নিনোর প্রভাব হিসেবে গণ্য করার কোনো কারণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শীতলতার মূল কারণ হলো সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থা এবং ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত।

উল্লেখ্য, এল নিনো হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিসরের জলবায়ুগত ঘটনা, যার ফলে মধ্য ও পূর্ব ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের জল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ থাকে। এটি ভারতের সামগ্রিক আবহাওয়ার ধরনকে প্রভাবিত করলেও, এই মুহূর্তে দিল্লির সেপ্টেম্বরের তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে এর সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।

তবে কি এবছর শীত আগে ঢুকবে?
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সময় বা বর্ষার আগেই শীত চলে আসার কোনো নিশ্চিত সম্ভাবনা নেই। বর্তমানের এই সক্রিয় আবহাওয়া ব্যবস্থাটি যখন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে, তখন উত্তর ভারতে শুষ্ক পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব ফের বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর থেকে ১লা অক্টোবর পর্যন্ত পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে রোদ ঝলমলে আকাশ ও গরম ফের বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘের দাপট কমলে এবং আবহাওয়া শুষ্ক হলে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই আবার ওপরের দিকে উঠবে।

নতুন নিম্নচাপের পূর্বাভাস
দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আবহাওয়ার এই পালাবদলের মাঝেই মায়ানমার সংলগ্ন অঞ্চলে তৈরি হয়েছে আরও একটি নতুন নিম্নচাপ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এটি উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে স্থলভাগের দিকে এগোতে পারে এবং গভীর নিম্নচাপেও পরিণত হতে পারে। যদিও আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন যে এর তীব্রতা আগের সিস্টেমের তুলনায় কিছুটা কম হবে। এই নতুন সিস্টেমটির প্রভাবে পূর্ব উত্তর প্রদেশ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ফের একবার আকাশ মেঘলা হতে পারে এবং হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং, আবহাওয়ার এই সাম্প্রতিক রূপ বদল শীতের আগমনের কোনো স্থায়ী বার্তা নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ সাময়িক ও খামখেয়ালি আবহাওয়া মাত্র।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *