মাঠের ২২ গজে চাপের মুখেও কীভাবে মাথা ঠান্ডা রাখেন কোহলি? খোদ ফাঁস করলেন রহস্য!

বয়স সাকুল্যে ৩৭, অথচ বাইশ গজে নামলে আজও তাঁর ক্ষিপ্রতা নজর কাড়ে চিতার মতো। টানা পঞ্চাশ ওভার ফিল্ডিং করার পরেও রান নেওয়ার সময় তাঁর চোখে-মুখে ক্লান্তির লেশমাত্র থাকে না। বরং ঝড়ের গতিতে দৌড়ে রান নেওয়া কিংবা চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটানোয় তিনি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু ঠিক কীভাবে নিজের এই অবিশ্বাস্য ফিটনেস এবং মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখেন ‘চেজ মাস্টার’? সম্প্রতি নিজের শারীরিক ফিটনেস এবং ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছেন খোদ বিরাট কোহলি।

কোহলির মতে, শারীরিক কসরত শুধু চেহারা ধরে রাখার জন্য নয়, এটি খেলার মাঠে ম্যাচের পরিস্থিতি নিখুঁতভাবে কল্পনা করতে সাহায্য করে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, মুক্ত মন নিয়ে মাঠে নামতে গেলে একটি ফিট শরীর অত্যন্ত জরুরি। ফিট থাকার ফলেই নিজের মতো করে ম্যাচের পরিস্থিতি কল্পনা করা সম্ভব হয়, যা পরিষ্কার মাথায় সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাহায্য করে।

ক্রীড়াবিদদের এই মানসিক শক্তির নেপথ্যে বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। সেন্টার ফর ক্রনিক ডিজিজ কন্ট্রোলের ডেপুটি ডিরেক্টর তথা গবেষক ডা. শিফালিকা গোয়েঙ্কার মতে, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও স্মৃতিশক্তির সরাসরি যোগ রয়েছে। খেলাধুলার সময় শরীর ও মস্তিষ্ককে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। একজন ব্যাটারকে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বলের গতি ও দিক বিচার করে শট নিতে হয়, যা আসলে ‘এক্সিকিউটিভ ডিসিশন-মেকিং’ বা দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা করলে চাপের মুখে শরীর ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। যারা নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে চাপের পরিস্থিতিতে কম পরিমাণে স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয় এবং হৃদস্পন্দনের গতিও নিয়ন্ত্রণে থাকে। অর্থাৎ, মন যখন চরম চাপের মুখে, তখন শরীর কীভাবে সেই চাপ সামলাবে— তার চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে সঠিক ফিটনেসেই। আর এই বৈজ্ঞানিক সমীকরণ মিলেই চাপের মুহূর্তেও বরফের মতো ঠান্ডা থাকে বিরাটের মাথা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *