যমুনার ধারের বস্তিতে ভোটার তালিকা নিয়ে তুলকালাম! নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি আক্রমণ রাহুলের

দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সোমবার সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনিক কোনো সংশোধন নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে ভোট চুরির একটি অভিনব পদ্ধতি।

সোমবার দিল্লির যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত বেলা এস্টেট বস্তি পরিদর্শনে যান রাহুল গান্ধী। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিওবার্তা শেয়ার করেন। তাঁর দাবি, ওই বস্তিতে ৭২৮ জন মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ার পর দেখা যায়, ভোটার তালিকায় মাত্র একজনের নাম রাখা হয়েছে এবং বাকি ৭২৭ জনের নামই সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।

কী দাবি করলেন রাহুল গান্ধী?

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল এবং ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে রাহুল জানান, এই মানুষগুলো দশকের পর দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। এমনকি তাঁরা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৫ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনেও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ২০২৩ সালে তাঁদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হলেও তাঁরা এলাকা ছেড়ে কোথাও যাননি।

পোস্টে রাহুল লেখেন, “আজ আমি তাদের বস্তিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের সঙ্গে কী আচরণ করেছে, তা সরাসরি শুনেছি। আমি ফোনে স্থানীয় এসডিএম-কে স্পষ্ট জানিয়েছি যে, বাড়ি থাকা বা না থাকার সঙ্গে ভোট দেওয়ার অধিকারের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নিজেও বলেছেন যে গৃহহীনদের জন্য ‘০ নম্বর বাড়ি’ বরাদ্দ। তা সত্ত্বেও ৭২৭ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলো কেন?”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যাঁদের অর্থনৈতিক সামর্থ্য সবচেয়ে কম, তাঁদের একমাত্র গণতান্ত্রিক অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি লেখেন, “জ্ঞানেশ কুমার হয়তো একদিন সরে যাবেন, কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থাটিকে যিনি পরিচালনা করাচ্ছেন, তাঁকেও জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে।”

দিল্লিতে ৩৩ লক্ষেরও বেশি নাম বাতিলের নোটিশ

দিল্লি নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুরু হওয়া দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গণনা ফর্মে অসঙ্গতি থাকায় এখনও পর্যন্ত ৩৩ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বহু ক্ষেত্রেই বর্তমান তথ্যের সঙ্গে ২০০২ সালের পূর্ববর্তী এসআইআর তালিকার মিল পাওয়া যায়নি বলেই এই পদক্ষেপ।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়া ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন বুথ-স্তরের কর্মকর্তারা (বিএলও)। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে এই ব্যাপক তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যেভাবে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠছে, তাতে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *