বাজারে আসার আগেই কি আটকে যাবে টাটা সন্স? মার্জার ও আরবিআই-এর এনওসি নিয়ে এল বিশাল আপডেট

শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির (লিস্টিং) হাত থেকে বাঁচতে এবং কোম্পানির প্রাইভেট ও আনলিস্টেড তকমা বজায় রাখতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে টাটা ট্রাস্ট। টাটা গ্রুপের মূল হোল্ডিং কোম্পানি টাটা সন্সের সঙ্গে দুটি অপারেটিং কোম্পানির মার্জার বা একত্রীকরণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই সম্পূর্ণ পুনর্গঠন বা রিস্ট্রাকচারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরি ক্লাসিফিকেশন বদলাতে চাইছে, যাতে বাজারে শেয়ার তালিকাভুক্ত করার কঠিন নিয়ম এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়।

সোমবার প্রকাশিত টাটা ট্রাস্টের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, এই প্রস্তাবিত মার্জারের আওতায় টাটা ইলেকট্রনিক্স সিস্টেমস সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড (TESS) এবং টাটা কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স (TCE)-কে টাটা সন্সের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। লবণ থেকে শুরু করে সফটওয়্যার, গাড়ি এবং এয়ারলাইন্সের মতো বিশাল ব্যবসা পরিচালনার নেপথ্যে থাকা এই হোল্ডিং কোম্পানির ভবিষ্যৎ ও ওনারশিপ স্ট্রक्चर নিয়ে বর্তমানে শিল্পমহলে জোর চর্চা চলছে।

টাটা ট্রাস্ট ও বোর্ডের মধ্যে মতপার্থক্য এবং আরবিআই-এর নিয়ম

নোয়েল টাটার নেতৃত্বাধীন টাটা ট্রাস্ট শুরু থেকেই টাটা সন্সকে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। গত বছরের জুলাই মাসেই ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, কোম্পানিটিকে যেন যেকোনো মূল্যে একটি ‘আনलिस्टার্ড প্রাইভেট এন্টিটি’ বা তালিকাভুক্তহীন বেসরকারি সংস্থা হিসেবেই টিকিয়ে রাখা হয়।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালে, যখন রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) টাটা সন্সকে ‘আপার-লেয়ার এনবিএফসি’ (NBFC-CIC) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। এই বিশেষ তকমা পাওয়ার ফলে নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোম্পানিকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করতে হতো। যদিও টাটা সন্স এই ফ্রেমওয়ার্ক থেকে নিজেদের নাম কাটিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার আবেদন করেছিল, তবে গত সেপ্টেম্বর মাসে আরবিআই সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলেই তালিকাভুক্তির বিষয়টি বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায় এবং তার ঠিক পরেই এই নতুন মার্জারের প্রস্তাব সামনে এল।

রিস্ট্রাকচারিং প্ল্যানের মূল লক্ষ্য ও আগামী পদক্ষেপ

টাটা ট্রাস্টের দাবি, এই নতুন পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কোম্পানির অপারেটিং রেভিনিউ বা পরিচালন আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, এতে বিনিয়োগের পরিমাণ এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে যাতে টাটা সন্সকে এনবিএফসি-সিআইসি কাঠামোর আওতা থেকে পুরোপুরি বের করে আনা সম্ভব হয়।

টাটা ট্রাস্টের হাতে বর্তমানে টাটা সন্সের প্রায় ৬৬ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে টাটা সন্স বোর্ডকে এই প্রস্তাব নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, মার্জারের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)-এর কাছ থেকে পূর্বানুমোদন বা ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) নেওয়াটাও বাধ্যতামূলক। সব মিলিয়ে, টাটা সন্সের এই ভবিষ্যৎ কৌশলগত পদক্ষেপ আগামী দিনে ভারতীয় কর্পোরেট জগতের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *