‘ঘর ভাঙার আগে পুনর্বাসন চাই!’ মুম্বইয়ের বাড়ি ভাঙচুর ঘিরে চরমে রাজনৈতিক সংঘাত

১৪ ফুটের বেশি উঁচু বাড়ি নির্মাণ ও তার বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুম্বইয়ের রাজনীতি। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে কেবল অবৈধ নির্মাণ ভাঙার প্রসঙ্গটিই নয়, বরং এর ফলে যে সমস্ত পরিবার গৃহহীন হতে চলেছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। এই নিয়ে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা চরমে পৌঁছেছে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি তোলা হয়েছে যে, কোনো কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি) সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে যে, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নামে গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অকারণে ভয় দেখানো হচ্ছে। দলটির মতে, গরিব মানুষের মাথার ছাদ কেড়ে নেওয়া বা তাদের আতঙ্কিত করা একপ্রকার অবিচার।

কংগ্রেস নেতা আরশাদ আজমি এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় জানান, আগে মানুষের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করা উচিত, তবেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একই সুর শোনা গিয়েছে শিবসেনা (ইউবিটি) নেত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী কিশোরী পেডনেকরের গলাতেও। তিনি বলেন, “আমরা কোনো অবৈধ নির্মাণকে সমর্থন করি না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে ভয় দেখিয়ে তাদের বাড়ির ওপর কোপ মারা হবে।”

এদিকে, এই গোটা বিতর্ক ও হট্টগোল প্রসঙ্গে পালটা মুখ খুলেছেন মুম্বইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ভেঙে ফেলার জন্য নয়, বরং তা সুরক্ষিত করতেই কাজ করছে সরকার। কেউ যদি এই স্পর্শকাতর বিষয়টিকে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করে, তবে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হবে। পাশাপাশি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন হাউসে দলীয় নেতারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জবাব দেবেন বলেও তিনি জানান।

সব মিলিয়ে, নিয়ম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কীভাবে রূপায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আগামী দিনে এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে মুম্বইয়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ময়দান আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *