‘১০০ মিটার দূরত্বে ১১ ঘণ্টার অপেক্ষা!’ মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় প্রশাসনের অমানবিক রূপ দেখে শিউরে উঠবে মন

বিহারের জমুইয়ে রেলওয়ে ট্র্যাকের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এবং তৎপরবর্তী প্রশাসনিক অসহযোগিতার ছবি সামনে আসার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ১০০ মিটারেরও কম দূরত্বের একটি ঘটনা থেকে মরদেহ সরাতে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা সময় লেগে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই দীর্ঘ সময়ে রেললাইনের ধারেই পড়ে ছিল মৃত মহিলার দেহ, আর পরিজনদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহারা দিয়ে তা কাক-পক্ষী ও বন্য জীবজন্তু থেকে রক্ষা করতে হয়েছে।
কী ঘটেছিল জমুইয়ে? খবর অনুযায়ী, মलयপুর এলাকার বাসিন্দা ৫০ বছরের অঞ্জू দেবী শনিবার সন্ধ্যা থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। রাতে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরে সকালে স্থানীয় সূত্রে খবর মেলে যে রেললাইনের ধারে এক মহিলার ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে রয়েছে। পরিবারের লোকজন গিয়ে শাড়ির টুকরো দেখে দেহটি অঞ্জূ দেবীর বলে শনাক্ত করেন। অভিযোগ, স্থানীয়রা রাতেই স্টেশন ও গেটম্যানকে খবর দেওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘক্ষণ কোনো সাহায্য মেলেনি।
অমানবিক দৃশ্য ও চরম গাফিলতি: মৃতার ভাই সতীশ কুমার সিং অভিযোগ করেছেন যে, জিআরপি (GRP)-র পক্ষ থেকে কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা স্ট্রেচার তো দূরস্ত, ন্যূনতম সহযোগিতাও করা হয়নি। ট্র্যাকের ওপর দেহ পড়ে থাকার সময় সেখানে কাক এসে দেহ নোচতে শুরু করেছিল, আর সেই দৃশ্য দেখে অসহায় পরিজনেরা নিজেদের দায়িত্বে দেহ পাহারা দেন।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, শেষ পর্যন্ত যখন দেহটি সরানোর সময় আসে, তখনও কোনো স্ট্রেচার সরবরাহ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে পরিজনেরা রেলের ডোমদের সাহায্যে দেহটি একটি বস্তায় বন্দी করেন এবং নিজেদের কাঁধে বা হাতে করে তুলে মलयপুর রেলওয়ে গেটের কাছে রাখা টেম্পো পর্যন্ত নিয়ে যান। এই ঘটনায় জমুইয়ের রেল প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম মানবিক বিপর্যয় ও অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।