‘মায়ের অঙ্গ নয়, সেও তো এক স্বাধীন মানুষ!’ ৫ মাসের গর্ভস্থ শিশু নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে তোলপাড় দেশ

মাতৃগর্ভে থাকা সন্তান কি কেবল মায়ের শরীরেরই একটি অংশমাত্র, নাকি তারও নিজস্ব আইনি সত্তা রয়েছে? এই যুগান্তকারী প্রশ্নের অত্যন্ত স্পষ্ট ও মানবিক উত্তর দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গর্ভাবস্থার পাঁচ মাস বা ২০ সপ্তাহ পার হলেই একটি ভ্রূণ আইনের চোখে স্বাধীন ‘ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মায়ের সঙ্গে অনাগত সন্তানের মৃত্যু হলে, তাকে সাধারণ মৃত্যুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা চলবে না; বরং পরিবারটিকে সন্তানের জন্য পৃথকভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পুরোনো রায় খারিজ করে রেলকে কড়া নির্দেশ: এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। এই রায়ের ফলে ২০২৩ সালে লখনউয়ের রেলওয়ে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালের একটি পুরনো সিদ্ধান্ত খারিজ হয়ে গেছে। সেই সময় ট্রায়াল কোর্ট দাবি করেছিল যে রেলের নিয়মে গর্ভস্থ ভ্রূণকে আলাদা ‘যাত্রী’ হিসেবে গণ্য করা যায় না। কিন্তু সেই যুক্তিকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করে উচ্চ আদালত রেল কর্তৃপক্ষকে অনাগত শিশুর মৃত্যুর জন্য পরিবারটিকে অতিরিক্ত ৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার পটভূমি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ: ২০১৭ সালের ১৩ জুন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে জন সাধারণ এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করছিলেন। গন্তব্যে ট্রেন থেকে নামার সময় আচমকাই প্ল্যাটফর্মে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হন তিনি এবং ঘটনাস্থলেই প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর মৃত্যু হয়। পেটের ভেতরেই প্রাণ হারায় অনাগত সন্তানটি। পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ হলে পরিবারটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালতের এই মানবিক ও প্রগতিশীল রায় আগামী দিনে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ মামলার ক্ষেত্রে এক নতুন আইনি দিশা দেখাবে বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *