ধনতেরাস-দীপাবলির আগে সোনা কেনায় বড় ধাক্কা! মধ্যবিত্তের পকেটে টান নাকি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আবেদন?

সামনেই ধনতেরাস, দীপাবলি এবং বছরের শেষলগ্নের জমজমাট বিয়ের মরশুম। যে সময়ে দেশের বাজারে সোনা কেনার ধুম পড়ে যায়, ঠিক সেই আবহেই চরম আশঙ্কায় দিন গুনছেন সোনা ব্যবসায়ীরা। অনবরত সোনার দামের ওঠানামা এবং পরিবর্তিত বাজারের গতিপ্রকৃতি দেখে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি এবার উৎসবের দিনে সোনা কেনা থেকে হাত গুটিয়ে নেবে মধ্যবিত্ত বাঙালি?

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের নেপথ্যে কেবল রেকর্ড দাম নয়, রয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এক বিশেষ প্রেক্ষিত। গত মে মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর কাছে বিশেষ আর্জি জানিয়ে বলেছিলেন, আগামী এক বছর খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া যেন কেউ সোনা না কেনেন। এমনকি সেপ্টেম্বরের শুরুতেও একই বার্তা শোনা গিয়েছিল তাঁর কণ্ঠে— অতি প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। উৎসবের মুখে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ কি প্রধানমন্ত্রীর সেই বারণ মানবে, নাকি সামাজিক ও পারিবারিক রীতি মেনে আবেগের বশে সোনা কেনায় ঝুঁকবে— তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা।

গণেশ চতুর্থীতেই মিলল সতর্কবার্তা: ব্যবসায়ীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলে ইতিমধ্যেই একটি উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। সদ্য পেরিয়ে যাওয়া গণেশ চতুর্থীতে দেশজুড়ে সোনা বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। ক্রেতাদের কেনাকাটার অভ্যাসেও দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট পরিবর্তন:

  • হালকা গয়নায় ঝোঁক: অতিরিক্ত দামের কারণে ভারী গয়না ছেড়ে বেশিরভাগ ক্রেতাই হালকা ওজনের জুয়েলারির দিকে ঝুঁকছেন।

  • পুরনো সোনা এক্সচেঞ্জ: নতুন সোনা কেনার চেয়ে পুরোনো গয়না ভেঙে বা বিক্রি করে নতুন গয়না গড়িয়ে নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

  • কয়েন ও বার-এ বিনিয়োগ: গয়নার বিক্রি কমলেও সোনা বা রুপোর মুদ্রা (Coins) এবং বার (Bars)-এ বিনিয়োগের চাহিদা এখনও বজায় রয়েছে।

সামনেই রয়েছে ধনতেরাস ও দীপাবলির কেনাকাটার মূল সময়। ভারতীয় সংস্কৃতিতে এই বিশেষ দিনগুলিতে সোনা বা ধাতু কেনাকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর আর্জি ও দামের চাপ ঠেলে মধ্যবিত্ত বাজারমুখী হয়, নাকি ব্যবসায়ীদের এই আশঙ্কা সত্যি হয়ে জুয়েলারি ক্ষেত্র এক অভূতপূর্ব মন্দার মুখ দেখে!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *