বিশেষ: পা মাপার দিন আজ, জেনেনিন বিশেষ এই দিনটির গুরুত্ব

জুতা কেনার আগে কমবেশি সবাই পা পরিমাপ করেন। তবে যারা তাদের পায়ের পরিমাপ জানেন, তারা হয়তো নিয়মিত পা মাপেন না কিংবা আগের মাপেই নতুন জুতা কেনেন।

তবে জানলে অবাক হবেন, নিয়মিত জুতা কেনার আগে পা পরিমাপের গুরুত্ব অনেক। সঠিক মাপের জুতা না পরার কারণে অনেকেই শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন, বিশেষ করে পায়ের ব্যথা ও যন্ত্রণা বাড়ে।

আজ কিন্তু পা মাপার দিন অর্থাৎ আপনার পায়ের সাইজ কত সেটি পরিমাপের দিবস। প্রতিবছর ২৩ জানুয়ারি পালিত হয় এই দিবস।

আসলে পা শরীরের সবচেয়ে উপেক্ষিত অংশ। বেশিরভাগ মানুষই পায়ের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেন না। এ কারণেই পায়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

পা মাপার দিবসের সূচনা কবে থেকে?

এই দিবস পালনের অন্যতম কারণ, খুব কম মানুষই জানেন তাদের জুতার আসল সাইজ কত সে সম্পর্কে। এ কারণে অনেক সময় জুতা হয় খুব টাইট কিংবা খুব ঢিলেঢালা। এর ফলে পায়ে ব্যথা ও অস্বস্তি হয়। এ কারণে পা মাপা জরুরি।

যদিও এই দিবসের সূচনা ঠিক কবে থেকে তা জানা নেই কারও। তবে কিছু উত্স থেকে জানা যায়, আইসল্যান্ডের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য থেকেই পা মাপার দিবস চালু হয়।

আইসল্যান্ডে বসন্তকাল মানে খুব ঠান্ডার সময়। বসন্তে ওই দেশে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়। জানা যায়, অতীতে আইসল্যান্ডবাসীরা ঝড়-বৃষ্টির সময় তাদের কুঁড়েঘরে ছুটতেন ও ঝড়ের আগমন উদযাপন করতেন রীতি মেনে।

ওই সময় তারা নিজেদের দুই পা পরিমাপ করে ‘শেলবিং’ নামক প্রাচীন এক আচারে অংশগ্রহণ করতেন। এই আচার অনেকটাই ‘হাই ফাইভ’ (এটি করা হয় হাত দিয়ে) দেওয়ার মতো।

এক্ষেত্রে হাতের বদলে ব্যবহৃত হত পা। একজনের পা দিয়ে অন্যজনের পায়ে হালকা স্পর্শ করে প্রাচীন আইসল্যান্ডবাসীরা ‘শেলবিং’ প্রথা অনুসরণ করতেন।

সঠিক উপায়ে পা মাপবেন কীভাবে?

ব্রানক ডিভাইসের মাধ্যমে সঠিক জুতার সাইজ পরিমাপ করা যায়। এটিই পা মাপার সর্বোত্তম এক উপায়। ‘Brannock’ ডিভাইস হলো একটি পা মাপার যন্ত্র।

চার্লস এফ. ব্র্যানক দ্বারা উদ্ভাবিত হয়েছিল এই ডিভাইস। চার্লস ব্র্যানক দুই বছরের মধ্যে পরিমাপের যন্ত্র তৈরি করেন।

তিনি ১৯২৫ সালে ডিভাইসটির প্রথম প্রোটোটাইপ পেটেন্ট করেন। তারপর ১৯২৭ সালে দুই বছর পরে একটি উন্নত সংস্করণ তৈরি করেন।

ওয়াশিংটন ডিসি’র স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনে প্রথম ব্র্যানক ডিভাইস কোম্পানির নমুনা ‘ব্র্যানক ডিভাইস’ দেখতে পারবেন।

চাইলে আপনার পায়ের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও আঙুলের দৈর্ঘ্য মেপে আপনার সঠিক পায়ের পরিমাপ বলে দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পা প্রসারিত হয়। এমনকি সমতল হয় ও চাপ পড়ার কারণে ধীরে ধীরে প্রশস্তও হয়।

তাই নিয়মিত পা মেপে জুতা পরা উচিত। আর পা পরিমাপের সর্বোত্তম সময় হলো, যেদিন সারাদিন হাঁটাহাঁটি বা দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করবেন সেদিন রাতে। তাহলেই পায়ের আসল মাপ জানতে পারবেন।

সূত্র: ন্যাশনাল টুডে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *