ডেঙ্গু ও নতুন ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত! সরকারি হাসপাতালে বেড আছে তো? ফ্রি হেলথ ক্যাম্পের ঠিকানা জানুন

রাজ্যজুড়ে মরশুম বদলের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু এবং বিভিন্ন ভাইরাসের প্রভাব। ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে তীব্র জ্বর, গায়ে ব্যথা ও সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের তরফ থেকে বিশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশিকা जारी করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা এবং জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তার সমস্ত আপডেট একনজরে জেনে নেওয়া যাক।
ডেঙ্গু ও ভাইরাল ফিভার নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো ধরণের জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে এডিস মশার কামড় থেকে হওয়া ডেঙ্গুর প্রকোপ রুখতে আপনার বাড়ির চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।
-
টব, ডাবের খোসা, পুরনো টায়ার বা ছাদ—কোথাও যেন জল জমে না থাকে।
-
ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।
-
শিশুদের ফুল হাতা পোশাক পরানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও হেলথ ক্যাম্পের সুযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা দিতে বিভিন্ন অঞ্চলে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিনামূল্যে হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে। এই ক্যাম্পগুলোতে গিয়ে আপনি সম্পূর্ণ নিখরচায় সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Health Checkup), রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং প্রাথমিক রক্ত পরীক্ষা করাতে পারবেন। নিকটবর্তী সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (PHC) বা স্থানীয় পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগে গিয়ে আপনার এলাকার বিনামূল্যে ক্যাম্পের সময়সূচি ও অবস্থান সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন।
সরকারি হাসপাতালে বেড মিলছে তো? জ্বর বা ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা ও মহকুমা হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বেড এবং ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আপনি সরাসরি সরকারি স্বাস্থ্য পোর্টাল বা স্থানীয় হাসপাতালের হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করে বেডের সাম্প্রতিক স্থিতি (Bed Availability Status) জেনে নিতে পারেন।
সুস্থ থাকতে সহজ কিছু প্রতিরোধমূলক টোটকা
-
দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন।
-
ইমিউনিটি বা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল এবং পুষ্টিকর খাবার ডায়েটে রাখুন।
-
কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না।
একটু সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে এই মরশুমের রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। জ্বর হলে সময় নষ্ট না করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।