মে মাসের আগেই শূন্য হবে আপনার বিদ্যুৎ বিল! সরকারি সোলার স্কিম এবং ভুয়ো মিটার চার্জ কমানোর সেরা উপায়

প্রতি মাসেই হু হু করে বাড়ছে বিদ্যুতের বিল। মধ্যবিত্তের পকেটে টান ধরাতে এই একটা বিলই যথেষ্ট। তবে আপনি কি জানেন, একটু সতর্কতা আর সরকারের বিশেষ প্রকল্পের সুবিধা নিলে আপনার মাসিক বিদ্যুৎ বিল একেবারে শূন্য হতে পারে? শুধু তা-ই নয়, অনেক সময় মিটারের গণ্ডগোলে যে ভূতুড়ে বা চড়া বিল আসে, তাও সহজে সংশোধন করা সম্ভব। কীভাবে করবেন? একনজরে জেনে নিন বিস্তারিত।
সরকারি ফ্রি সোলার প্রকল্প ও শূন্য বিদ্যুৎ বিলের সুবিধা
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: বিনামূল্যে বিদ্যুৎ যোজনা’-র আওতায় দেশের বহু পরিবারকে প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আপনিও আপনার বাড়ির খালি ছাদ ব্যবহার করে এই সুবিধা নিতে পারেন।
আবেদন করার সহজ কয়েকটি ধাপ:
১. পোর্টাল রেজিস্ট্রেশন: সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (pmsuryaghar.gov.in) গিয়ে নিজের রাজ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা (DISCOM) এবং ইলেকট্রিক বিলের কনজিউমার নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
২. ফিজিবিলিটি অ্যাপ্রুভাল: তথ্য জমা দেওয়ার পর স্থানীয় বিদ্যুৎ দপ্তর (DISCOM) থেকে ছাদের ভৌগোলিক অবস্থান ও লোডের উপযুক্ততা খতিয়ে দেখে অনুমোদন দেওয়া হবে।
৩. অনুমোদিত ভেন্ডর নির্বাচন: ফিজিবিলিটি রিপোর্ট পজিটিভ এলে পোর্টাল থেকে অনুমোদিত বা তালিকাভুক্ত (Empaneled) যেকোনো এক সোলার সংস্থাকে নির্বাচন করুন।
৪. ইনস্টলেশন ও নেট মিটারিং: সোলার প্যানেল বসানোর পর বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নেট মিটার (Net Meter) বসানো হবে। এর ফলে আপনার অতিরিক্ত তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ গ্রিডে জমা হবে এবং বিলের অঙ্কে বড়সড় ছাড় পাবেন।
৫. সাবসিডি সরাসরি অ্যাকাউন্টে: প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি (Subsidy) সরাসরি আপনার আধার-লিংকড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে।
অতিরিক্ত ও ভূতুড়ে মিটার বিল এলে কী করবেন?
অনেক সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা রিডিং ভুল নেওয়ার কারণে অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল চলে আসে। তা না মেটালে লাইন কেটে দেওয়ার ভয়ও থাকে। এই সমস্যা এড়াতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
-
স্বাভাবিক ব্যবহার যাচাই: বাড়ির সমস্ত সুইচ ও ভারী সরঞ্জাম বন্ধ রেখে মিটারের দিকে নজর রাখুন। যদি সরঞ্জাম বন্ধ থাকা সত্ত্বেও মিটারের পালস বা চাকা দ্রুত ঘোরে, তবে বুঝবেন মিটারে কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ রয়েছে।
-
মিটার টেস্টের আবেদন: আপনার নিকটবর্তী বিদ্যুৎ দপ্তরের কাস্টমার কেয়ার বা সাব-স্টেশনে গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ বা ‘মিটার টেস্টিং درخواست’ জমা দিন। দপ্তর থেকে টেকনিশিয়ান এসে ‘চেক মিটার’ বসিয়ে রিডিং যাচাই করবে।
-
মিটার রিডিংয়ের ছবি সংরক্ষণ: প্রতি মাসে বিদ্যুৎ পর্ষদের প্রতিনিধি রিডিং নেওয়ার সময় নিজে মোবাইলে মিটার ডিসপ্লের ছবি তুলে রাখুন। বিলের সঙ্গে ছবি মেলান।
-
অনলাইন পোর্টাল বা কনজিউমার ফোরামে নালিশ: স্থানীয় বিদ্যুৎ দপ্তর থেকে সঠিক কাজ না হলে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের অনলাইন পোর্টাল, টোল-ফ্রি নম্বর অথবা সরাসরি ‘জাতীয় উপভোক্তা হেল্পলাইন’ (National Consumer Helpline)-এ অভিযোগ নথিবদ্ধ করুন। ভুল প্রমাণিত হলে পরবর্তী বিলে ওই বাড়তি অর্থ সামঞ্জস্য (Adjust) করে দেওয়া হয়।
সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় আমরা সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত হই বা বাড়তি বিল মিটিয়ে দিই। একটু সচেতন হয়ে নির্দেশিকাগুলো মেনে চললেই আপনার মাসিক বিদ্যুতের খরচ একধাক্কায় নেমে আসবে শূন্যে।