দীঘা-বকখালি ভুলে যান! কলকাতার কাছেই এই ‘গোপন’ নদীর পাড় দেখলে মন জুড়িয়ে যাবে

উইকেন্ড এলেই মনটা কেমন যেন পালাই পালাই করে। কিন্তু দীঘা, মন্দারমণি কিংবা বকখালির চেনা চত্বর ঘুরে অনেকেরই আর ভালো লাগে না। ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যদি একটু নিরিবিলিতে নদীর ঠান্ডা হাওয়া গায়ে মাখতে চান, তবে আপনার জন্য একদম পারফেক্ট ডেস্টিনেশন হতে পারে গাদিয়ারা এবং তার ঠিক পাশের এক অপূর্ব গোপন রত্ন—গড়চুমুক ও ৫৮ গেট।

হাওড়া জেলার একদম শেষ প্রান্তে অবস্থিত গাদিয়ারায় এসে মিশেছে তিনটি নদী—হুগলি, রূপনারায়ণ ও দামোদর। মোহনার বুক চিরে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই অতুলনীয়। তবে আসল রোমাঞ্চ লুকিয়ে রয়েছে গাদিয়ারা থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার আগেই। অনেকেই গাদিয়ারা পর্যন্ত গেলেও মাঝপথে গড়চুমুককে এড়িয়ে যান। এখানেই দামোদর নদের উপর রয়েছে ৫৮টি লকগেট দিয়ে তৈরি বিশাল এক বাঁধ, যা স্থানীয়ভাবে ‘৫৮ গেট’ নামে পরিচিত। বর্ষার দিনে যখন এই সমস্ত গেট একসঙ্গে খুলে দেওয়া হয়, তখন জল পড়ার সেই গর্জন যে কারোর গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য।

মানসিক শান্তির জন্য কেন যাবেন এখানে? ১. ডিয়ার পার্ক ও নির্জন নদীপাড়: ৫৮ গেটের ঠিক পাশেই রয়েছে মনোরম গড়চুমুক ডিয়ার পার্ক। ছোটোখাটো জঙ্গলঘেরা এই পার্কে হরিণের দল ঘুরে বেড়ায়, শোনা যায় ময়ূরের ডাক। পার্কের ভিতর থেকে সরাসরি নেমে যাওয়া যায় দামোদর নদের পাড়ে। এখানে কোনো কোলাহল বা মাইকের আওয়াজ নেই; কেবল আছে নদীর বয়ে চলার শব্দ আর পাখির মিষ্টি কলতান। ২. জিরো ক্রাউড: গাদিয়ারায় পিকনিকের মরশুমে আজকাল উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। কিন্তু গড়চুমুক এখনও বেশ অফবিট। সপ্তাহের যে কোনো দিন গেলে পুরো নদীপাড়টা আপনি একেবারে নিজের মতো করে উপভোগ করতে পারবেন। ৩. ঐতিহাসিক ক্লাইভের কেল্লা: গাদিয়ারা থেকে ছোট্ট একটি নৌকোয় চেপে ঘুরে আসতে পারেন ভগ্নপ্রায় ফোর্ট মর্নিংটন বা রবার্ট ক্লাইভের কেল্লা থেকে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর এটি নির্মিত হয়েছিল। এখানকার উঁচু জায়গা থেকে তিন নদীর সঙ্গমের দৃশ্য এককথায় অসাধারণ।

কীভাবে যাবেন এবং খরচ: কলকাতা থেকে এর দূরত্ব মোটে ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার। নিজের বাইক বা গাড়ি নিয়ে NH16 ধরে উলুবেড়িয়া, সেখান থেকে শ্যামপুর হয়ে সোজা পৌঁছে যাওয়া যায় গড়চুমুক। ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া থেকে উলুবেড়িয়া স্টেশনে নেমে টোটো বা অটোতে ৩০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। থাকা ও খাওয়ার জন্য গাদিয়াতে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের রূপনারায়ণ ট্যুরিস্ট লজ রয়েছে, যেখানে ১২০০ টাকা থেকে রুম পাওয়া যায়। তবে চাইলে একদিনেই ঘুরে আসা যায়। সুতরাং, উইকেন্ডে শপিং মলের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে একবার ঘুরে আসতেই পারেন এই শান্ত নদীর পাড় থেকে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *