কালীঘাট নাকি ঋতব্রত শিবির—কাকে মিলবে ঘাসফুল প্রতীক? উপনির্বাচনের আগেই কাটতে চলেছে রাজনৈতিক জট

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক নিয়ে চলা দীর্ঘ দ্বন্দ্বের কি তবে এবার অবসান ঘটতে চলেছে? রাজনৈতিক মহলের সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইঙ্গিত মিলছে যে, আগামী বৃহস্পতিবারই ঘাসফুল প্রতীক কার হাতে থাকবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, বুধবারই তৃণমূলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের তরফে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ বৈঠকে বসতে চলেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। তারপরেই এই দীর্ঘমেয়াদী প্রতীক বিতর্কের আইনি ও প্রশাসনিক নিষ্পত্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আসন্ন নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কালীঘাট ও ঋতব্রতপন্থী—উভয় পক্ষ থেকেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং দুপক্ষই জোড়াফুল প্রতীকেই লড়ার দাবি জানিয়েছে। বুধবারই ছিল এই দুই কেন্দ্রের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে দুই পক্ষের প্রতীক সংক্রান্ত লড়াইয়ের নিষ্পত্তি না হওয়ায়, প্রার্থীরা মাঠে নামলেও জোড়াফুল প্রতীক আদৌ হাতে পাবেন কি না, তা নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘদিনের কর্মপদ্ধতি ও নিয়মকানুন নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ প্রাক্তন আমলা তথা প্রাক্তন আইএএস অফিসার জহর সরকার। তাঁর মতে, ১৯৮৮ সালের সিম্বল অ্যালটমেন্ট অ্যান্ড অ্যালোকেশন রুলের ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতীক নিয়ে বিবাদ দেখা দিলে লিখিত বক্তব্য ও শুনানির একটি নির্দিষ্ট দীর্ঘ প্রক্রিয়া থাকে। সেই নিয়মানুযায়ী দুই পক্ষই নিজেদের দাবি ও পাল্টা জবাব জমা দিয়েছে। তবে এই জটিল আইনি প্রক্রিয়ার জেরে আসন্ন উপনির্বাচনের আগে এই জট সম্পূর্ণ কাটবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। এমতাবস্থায়, বৃহস্পতিবার কমিশনের বৈঠকে ঠিক কী রায় আসে এবং শাসক শিবিরের অন্দরের এই প্রতীক যুদ্ধের নাটকের অন্তিম পরিণতি কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *