আইভি সেট থেকে সিরিঞ্জ—অতিরিক্ত দাম নিয়ে বড়সড় কারচুপির পর্দাফাঁস, জানুন আসল সত্যিটা

সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় বড়সড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাসপাতালের বিল। আর এই চড়া খরচের নেপথ্যে শুধু ওষুধ বা ডাক্তারির ফি নয়, বরং বড় ভূমিকা রয়েছে বিভিন্ন মেডিক্যাল কনজিউমেবল বা চিকিৎসা উপকরণের আকাশছোঁয়া দামের। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)-এর একটি সমীক্ষায় যা সামনে এসেছে, তা দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। উৎপাদনের বা ক্রয়ের মূল্যের সঙ্গে সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বা MRP-র আকাশ-পাতাল ফারাক প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এই সমস্ত সামগ্রীর ক্ষেত্রে ২ হাজার শতাংশেরও বেশি লাভ করা হচ্ছে।
মহারাষ্ট্র স্টেট প্রাইস মনিটরিং রিসোর্স ইউনিট (MSPMRU)-এর মাধ্যমে হাসপাতালগুলিতে ইনপেশেন্ট বিভাগে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস ও উপকরণের দাম খতিয়ে দেখা হয়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ১১ টাকা ৫ পয়সায় কেনা একটি IV ইনফিউশন সেটের MRP রাখা হয়েছে ৩২৫ টাকা। মহারাষ্ট্র FDA কমিশনার তুকারাম মুন্ডে জানিয়েছেন, এই ক্ষেত্রে লাভের মার্জিন বা শতকরা হার ২,৮৪১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে!
শুধু IV সেটই নয়, এই ছবি ধরা পড়েছে অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষেত্রেও। ৬ টাকা ৭৫ পয়সায় কেনা ১০ মিলিলিটার একটি সিরিঞ্জের দাম নেওয়া হচ্ছে ৫৭ টাকা ২০ পয়সা। আবার ২৯ টাকা ৪১ পয়সায় কেনা একটি ক্যাথেটারের দাম রাখা হচ্ছে ৩১০ টাকা। একই সঙ্গে নেবুলাইজার এবং অক্সিজেন মাস্কের দামের ক্ষেত্রেও বিশাল ফারাক দেখতে পাওয়া গেছে।
কেন এই পরিস্থিতি? বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীরা যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন, তখন তাঁদের পক্ষে এই ধরনের চিকিৎসা উপকরণের আসল ক্রয়মূল্য যাচাই করা বা বাজার থেকে দরদাম করে বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব হয় না। এই অসহায়তার সুযোগ নিয়েই পকেট কাটা হয় সাধারণ রোগীর পরিজনদের।
কেন্দ্রের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি এই বিপুল মূল্যবৈষম্য ও একচেটিয়া কারবার রুখতে এবার কেন্দ্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মহারাষ্ট্রের FDA কমিশনার। সেন্ট্রাল ডিপার্টমেন্ট অফ ফার্মাসিউটিক্যালস-কে চিঠি দিয়ে এই ধরনের বহুল ব্যবহৃত হাসপাতাল-সামগ্রীর দাম পুনর্বিবেচনা করার জোরালো আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রধান প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে, প্রয়োজনীয় ইনপেশেন্ট সার্জিক্যাল কনজিউমেবলগুলিকে ‘ড্রাগস প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার’ (DPCO)-এর কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা, ট্রেড মার্জিনের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা এবং দাম পর্যবেক্ষণের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা।
চিকিৎসা ব্যবস্থার আড়ালে চলা এই অতিরিক্ত মুনাফাখোরি বন্ধ করতে এবার প্রশাসনিক স্তরে কড়া পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।