ফ্রিজ বিস্ফোরণ কাড়ল ঘুমন্ত মানুষের প্রাণ! কর্ণাটকের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুনলে শিউরে উঠবেন

ঘরে রাখা একটি সাধারণ রেফ্রিজারেটরের বিস্ফোরণ যে এত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি কর্ণাটকের বেলাগাভির ধামোনে পরিবারের সদস্যরা। গভীর রাতে বাড়ির ফ্রিজ থেকে হঠাৎ হওয়া এক বিস্ফোরণের জেরে ঘুমন্ত অবস্থাতেই পুড়ে মৃত্যু হয়েছে একই পরিবারের চার জন মহিলা সদস্যের। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কীভাবে ঘটেছিল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কর্ণাটকের বেলাগাভিতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার ভোররাত আড়াইটে নাগাদ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ফ্রিজে মারাত্মক কোনো শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। পরিবারের এক জীবিত সদস্য রোশন ধামোনে পুলিশকে জানিয়েছেন যে, দুর্ঘটনার ঠিক আগেই তাঁরা একটি অত্যন্ত জোরাল শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন, যা সম্ভবত শর্ট সার্কিটেরই শব্দ ছিল।
ফ্রিজে বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাড়িতে। রাতের গভীরতা এবং আগুনের লেলিহান শিখা চারদিক গ্রাস করায় ঘর থেকে বেরিয়ে বাঁচার বিন্দুমাত্র সুযোগ পাননি দুর্ভাগা সদস্যরা। ফলস্বরূপ, বাড়ির ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে করুণ মৃত্যু হয় চার জনের।
মৃত ও আহতদের পরিচয়
এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো চার জন মহিলা সদস্য হলেন— গঙ্গী ধামোনে (২৫), সারদা ধামোনে (৪৫), প্রিয়া ধামোনে (২৮) এবং ভারতী ধামোনে (৫০)।
পাশাপাশি, এই দুর্ঘটনায় পরিবারের অন্য দুই সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। গুরুতর জখম অবস্থায় বাড়ির প্রবীণ সদস্য গজানন ধামোনে (৬৫) এবং তাঁর ছেলে রোশন ধামোনেকে (২১) দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার প্রকাশ নিকম জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন গজানন ধামোনের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং তাঁর ছেলে রোশনের শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁদের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ফরেন্সিক তদন্ত শুরু
ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটল এবং রেফ্রিজারেটরের কোন ত্রুটির জেরে এই সর্বনাশা আগুন ছড়িয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আধুনিক জীবনে রান্নার ঘর থেকে শুরু করে বসার ঘরের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীগুলো কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, এই মর্মান্তিক ঘটনা যেন তারই এক নির্মম সতর্কবার্তা দিল।