টোল প্লাজায় আর হয়রানি নয়: ওয়ানট্যাগ ফিচারের মাধ্যমে এক ক্লিকেই ফাস্টট্যাগ অ্যাকাউন্ট বদলানোর ৫টি জরুরি নিয়ম

হাইওয়ে টোল পরিশোধের পদ্ধতিকে অনেক সহজ করে দিয়েছে ফাস্টট্যাগ। গাড়ির উইন্ডশিল্ডে লাগানো একটি ছোট স্টিকার টোল প্লাজায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থপ্রদান সম্পন্ন করে। তবে এতদিন পর্যন্ত ফাস্টট্যাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক পরিবর্তন করা বেশ ঝামেলার কাজ ছিল। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার নিয়ে এসেছে নতুন ‘ওয়ানট্যাগ’ (OneTag) ফিচার। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পুরোনো স্টিকার বা ট্যাগ আইডি পরিবর্তন না করেই খুব সহজেই তাদের ফাস্টট্যাগ অন্য ব্যাংকে পোর্ট করতে পারবেন।

মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির মতো এই ব্যবস্থায় নম্বর বা স্টিকার একই রেখে শুধু ইস্যুকারী ব্যাংক পরিবর্তন করা সম্ভব। এই নতুন ব্যবস্থার মূল ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে আলোচনা করা হলো:

১. ফাস্টট্যাগ স্টিকার পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই

ওয়ানট্যাগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ব্যাংক পরিবর্তন করলেও গাড়ির উইন্ডশিল্ডে লাগানো পুরোনো ফাস্টট্যাগ স্টিকারটি আর সরাতে হবে না। ব্যবহারকারীর ট্যাগ আইডি এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে নতুন করে ফাস্টট্যাগ তোলার বা স্টিকার খোলার কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না।

২. ব্যাংক পরিবর্তন করা হবে অত্যন্ত সহজ

OneTag ব্যবহারকারীদের তাদের বিদ্যমান ফাস্টট্যাগ অন্য ব্যাংকে নির্বিঘ্নে স্থানান্তর করার সুযোগ দেয়। এর ফলে বারবার ফাস্টট্যাগ পুনরায় ইস্যু করার প্রয়োজন হয় না। ব্যাংক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাকএন্ডের সমস্ত রেকর্ড আপডেট হয়ে যায় এবং নতুন ব্যাংক পরবর্তী সমস্ত পরিষেবা পরিচালনা করতে শুরু করে।

৩. যেভাবে টোল পেমেন্ট প্রক্রিয়া চলবে

ব্যবহারকারীরা এনএইচএআই (NHAI)-এর ‘রাজমার্গযাত্রা’ অ্যাপের মাধ্যমে এই ওয়ানট্যাগ সুবিধা অ্যাক্সেস করতে পারবেন। আগের মতোই নেটসি (NETC) সিস্টেমের মাধ্যমে টোল পেমেন্ট প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। অর্থাৎ, টোল প্লাজায় ফাস্টট্যাগ দিয়ে অর্থ পরিশোধের নিয়মে কোনো বড় পরিবর্তন আসছে না।

৪. পুরোনো ফাস্টট্যাগের ব্যালেন্সের হিসাব

ব্যাংক পরিবর্তন করলে পুরোনো ফাস্টট্যাগ ওয়ালেটের ব্যালেন্স নিজে থেকেই নতুন ব্যাংকে স্থানান্তরিত হয় না। পুরোনো ব্যাংকে থাকা অবশিষ্ট ব্যালেন্স, রিফান্ড এবং পেন্ডিং ট্রানজ্যাকশনগুলো আগের ইস্যুকারী ব্যাংক নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি করবে। তাই ব্যাংক পরিবর্তনের আগেই পুরোনো অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ও বকেয়া পেমেন্টগুলো যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৫. কেন এই ওয়ানট্যাগ ব্যবস্থা চালু করা হলো?

বর্তমান ব্যাংকের পরিষেবা নিয়ে কোনো গ্রাহক অসন্তুষ্ট হলে বা অন্য ব্যাংক থেকে ভালো অফার ও পরিষেবা পেতে চাইলে তাকে এতদিন গাড়ি থেকে পুরোনো ট্যাগ খুলে নতুন স্টিকার লাগানোর ঝক্কি পোহাতে হতো। সেই সমস্যার অবসান ঘটাতেই ওয়ানট্যাগ আনা হয়েছে, যা গ্রাহকদের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *