১০০০ টাকা সস্তা হলো হলুদ ধাতু! পুজোর ঠিক আগে আকস্মিক দরপতনে দারুণ সুযোগ ক্রেতাদের সামনে

দুর্বল বৈশ্বিক সংকেত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী ডলারের প্রভাবে দেশের বুলিয়ন বাজারে বড়সড় পতন দেখা গেল। মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,০০০ টাকা কমে ১,৫৪,৪০০ টাকায় নেমে এসেছে, যা গত এক মাস বা প্রায় পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ৭ই আগস্ট এই স্তরের কাছাকাছি লেনদেন হয়েছিল সোনা। তবে সোনা সস্তা হলেও রুপার দামে এদিন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সোনা দাম কমার নেপথ্যে আসল কারণ কী?

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া এবং বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সোনার এই দরপতন ঘটেছে। এইচডিএফসি সিকিউরিটিজের সিনিয়র কমোডিটি অ্যানালিস্ট সৌমিল গান্ধী জানিয়েছেন, স্পট সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪,৩০০ ডলারের নিচে নেমে গেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ক্রমবর্ধমান বন্ড ইল্ডের পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন নীতি নির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে।

আনন্দ রাঠি শেয়ার্স অ্যান্ড স্টক ব্রোকার্স লিমিটেডের পণ্য ও মুদ্রা গবেষণা বিশ্লেষক বেদিকা নারভেকার জানান, এই মাসে ইতিমধ্যেই সোনার দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা বিশ্ব বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

খুচরা ক্রেতা ও গহনা ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ

সামনেই উৎসবের মরশুম এবং বিয়ের লাগাতার দিন। ঠিক এই সময়ে সোনার দামে এমন পতনে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। বুলিয়ন বাজারের বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই দরপতন স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের বাজারে একটু সতর্ক হতে বাধ্য করলেও, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কম দামে সোনা কেনার মোক্ষম সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, রুপার দাম আগের মতো অপরিবর্তিত থেকেই প্রতি কেজি ২,৩৪,৬০০ টাকায় (সমস্ত কর সহ) স্থিতিশীল রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *