২০০০ টাকার বেশি পেমেন্টেই কি কোপ পড়তে চলেছে পকেটে? ইউপিআই নীতি নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধনা রাহুলের

ইউপিআই (UPI) লেনদেনের ওপর চুপিসারে মাশুল চাপানোর পথ তৈরি করার অভিযোগে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কী নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক?
সম্প্রতি সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ২,০০০ টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেন এবং রূপে (RuPay) ডেবিট কার্ড পেমেন্টে ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট সংস্থাগুলি কোনো ফি নিতে পারবে না। কিন্তু এর ওপরের অঙ্কের লেনদেনে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘তুষ্ট’ করতে এবং আমেরিকার বড় পেমেন্ট সংস্থাগুলির স্বার্থরক্ষা করতেই ভারতকে ডিজিটাল পেমেন্টে মাশুল নেওয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে কেন্দ্র। এতদিন পর্যন্ত ভারতে ইউপিআই লেনদেনের অঙ্কের ওপর কোনও মাশুল বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) নেওয়া হত না। ২,০০০ টাকার বেশি ব্যবসায়ী বা মার্চেন্ট পেমেন্টে ঠিক কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে সরকার স্পষ্ট করে কিছু না জানানোয় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
রাহুলের বিস্ফোরক অভিযোগ
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ গোপনে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিআই মাশুল চাপানোর রাস্তা পরিষ্কার করছে। তাঁর কথায়, “এখন থেকে ২,০০০ টাকার ওপর মার্চেন্ট ইউপিআই লেনدেনে এমডিআর বসানো হতে পারে। এই ধরনের লেনদেন সংখ্যায় মোট ইউপিআই ব্যবস্থার মাত্র ৫ শতাংশ হতে পারে, কিন্তু টাকার অঙ্কের হিসেবে এটি মোট ইউপিআই লেনদেনের প্রায় ৬৫ শতাংশ।”
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর সরাসরি কোনো চার্জ বা চাপ পড়বে না। কিন্তু এই যুক্তিকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে রাহুলের প্রশ্ন, যে দোকানদার বা ব্যবসায়ীদের ওপর এই বাড়তি ফি চাপানো হবে, শেষ পর্যন্ত সেই খরচ কীভাবে উঠবে? ঘুরপথে জিনিসের দাম বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত আমজনতার পকেট থেকেই সেই টাকা উসুল করা হবে বলে তাঁর দাবি। আমেরিকার বড় পেমেন্ট সংস্থাগুলি ভারতের এই শূন্য-এমডিআর (Zero-MDR) নীতির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতা করে আসছিল উল্লেখ করে রাহুলের কটাক্ষ, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মতো এই বিষয়েও মার্কিন চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।