বাবাকে হারিয়েও থামেনি লড়াই! মাত্র ১৪ বছর বয়সে থার্মোকলের বল দিয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি বানিয়ে তাক লাগাল কাকদ্বীপের কিশোরী!

প্রতিকূল পরিস্থিতি আর অর্থনৈতিক লড়াই কখনোই সত্যিকারের প্রতিভাকে আটকে রাখতে পারে না— এই কথাই ফের একবার প্রমাণ করে দেখাল পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের একাদশবর্ষীয় কিশোরী অদৃতি মাইতি। রঙ ও তুলির প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ অভিনব উপায়ে, প্রায় দু’হাজার থার্মোকলের বল নিখুঁত বিন্যাসে সাজিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অপূর্ব প্রতিকৃতি তৈরি করেছে সে। আর এই অসাধারণ শিল্পকর্মের সুবাদেই মাত্র ১৪ বছর বয়সে মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ (India Book of Records)-এ নাম তুলেছে এই প্রতিভাবান কিশোরী।

সংগ্রামের দিনগুলি ও অনন্য শিল্পকর্মের নেপথ্য গল্প

অদৃতির এই সাফল্যের পথটি মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র নয় বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর নেমে আসে চরম আর্থিক সংকট। মা রুম্পা মাইতির সঙ্গে মামার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেই বড় হতে হয়েছে তাকে। তবে শিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মায়ের অদম্য অনুপ্রেরণায় হাল ছাড়েনি অদৃতি। স্থানীয় শিক্ষক দেবরাজ বেরার কাছে ছবি আঁকা ও শিল্পচর্চার তালিম নেওয়ার সুবাদেই তার চিন্তাভাবনায় নতুন বৈচিত্র্য আসে।

৩ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা এবং ১ ফুট ৭ ইঞ্চি চওড়া এই অভিনব শিল্পকর্মটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ঠিক ২,০০০টি থার্মোকলের বল। প্রতিটি বলের নিখুঁত বিন্যাস, মুখের অভিব্যক্তি এবং সুনিপুণ কারুকার্য ফুটিয়ে তুলতে তাকে চরম ধৈর্য ও মনোযোগ দিতে হয়েছে।

জাতীয় স্বীকৃতি ও আগামী দিনের স্বপ্ন

বাড়িতে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের শংসাপত্র, মেডেল ও অফিশিয়াল রেকর্ড বুক পৌঁছানোর পর থেকেই খুশির হাওয়া গোটা পরিবার ও স্থানীয় এলাকায়। তবে এখানেই থামতে নারায় অদৃতি; ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে নিজের শিল্পকলাকে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে সে। বাংলার এই কৃতি মেয়ের সাফল্যে এখন গর্বিত গোটা কাকদ্বীপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *