প্রায় পঙ্গু হয়ে ভেঙে গিয়েছিল পাঁজর! ৬ বছর পর মঞ্চে ফিরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ‘টাইটানিক’ গায়িকা!

বিশ্ববিখ্যাত ‘টাইটানিক’ ছবির ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ গানের সেই কালজয়ী কণ্ঠ, যার জাদুকরী সুরে একসময় ভেসে গিয়েছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এক বিরল ও যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করে গানের মঞ্চ থেকে বহুদূরে সরে গিয়েছিলেন কানাডিয়ান পপসম্রাজ্ঞী সেলিন ডিওন। সমস্ত বাধা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, দীর্ঘ ৬ বছর পর অবশেষে প্যারিসের মঞ্চে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটল ৫৮ বছর বয়সী এই পপ তারকার।

বিরল রোগ ও শরীরের মারাত্মক পরিণতি

২০২২ সালে সেলিন ডিওনের শরীরে ধরা পড়ে ‘স্টিফ পারসন সিন্ড্রোম’ (Stiff Person Syndrome) নামের এক অতি বিরল স্নায়বিক রোগ। পেশীতে ভয়াবহ খিঁচুনি তৈরি করে এই রোগ দৈনন্দিন জীবনযাপন প্রায় অচল করে দিয়েছিল।

নিজের শরীরের করুণ অবস্থার কথা বলতে গিয়ে সেলিন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “মনে হতো যেন কেউ আমার গলা টিপে ধরেছে! স্বরযন্ত্রে তীব্র চাপ পড়ত, উঁচু বা নীচু সুরে গান গাওয়া অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। কখনও কখনও হাত-পায়ের আঙুল এমনভাবে দুমড়ে বা শক্ত হয়ে যেত যে তা আর সোজা করা যেত না। রোগটি এতটাই মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে কাশির চোটে একবার আমার বুকের পাঁজর পর্যন্ত ভেঙে গিয়েছিল!”

প্যারিসের মঞ্চে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন

২০২০ সালের পর থেকে আর কোনো পূর্ণাঙ্গ শো করতে পারেননি তিনি। যদিও ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মাত্র একটি গান গেয়েছিলেন, তবে এবার আর কোনো সংক্ষিপ্ত পরিবেশনা নয়—প্যারিসে শুরু হয়েছে তাঁর টানা ২৬টি শোয়ের বিশাল কনসার্ট সিরিজ।

ইউরোপের বৃহত্তম কনসার্ট ভেন্যু ‘প্যারিস লা ডিফেন্স অ্যারেনা’-তে যখন ৩০ হাজার দর্শকের উচ্ছ্বসিত হাততালির মধ্যে তিনি মঞ্চে প্রবেশ করেন, তখন আবেগে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি সেলিন। গানের শেষে মঞ্চেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জলভেজা চোখে অনুরাগীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি কথা দিয়েছিলাম আবার মঞ্চে ফিরব। আজ আমি আপনাদের জন্য এবং নিজের জন্য গাইছি। আপনারা ভালবেসেছিলেন বলেই আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি।” মারাত্মক রোগ তাঁর শরীরে থাবা বসালেও, সুর ও গানের প্রতি তাঁর আত্মনিবেদনকে যে এক বিন্দুও দমাতে পারেনি—প্যারিসের এই ঐতিহাসিক রাত যেন সেটাই আবারও প্রমাণ করে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *