বন্যা ও আঁধারে নিমজ্জিত নেপাল, ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এল নয়াদিল্লি: নে নেওয়া হল বড় সিদ্ধান্ত?

প্রবল বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত প্রতিবেশী দেশ নেপাল। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে দেশটি। প্রতিবেশীর এই চরম বিপদের সময়েই মানবিক ও কূটনৈতিক হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। নেপালের বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ রফতানির অনুমোদন দিল কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক সূত্রে খবর, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা নেপালকে সর্বোচ্চ ৬৫৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ রফতানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কীভাবে পৌঁছাবে এই বিদ্যুৎ?
দুটি মূল ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ নেপালে যাবে:
-
মুজফ্ফরপুর-ঢালকেবর (৪০০ কেভি লাইন): এই সংযোগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাঠানো সম্ভব হবে।
-
তানকপুর-মহেন্দ্রনগর (১৩২ কেভি লাইন): এই লাইনের মাধ্যমে আরও ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানি করা যাবে।
সম্প্রতি নেপালে হওয়া আকস্মিক বন্যায় তাদের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেপ্টেম্বর থেকেই ভারতের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির জন্য আগাম ছাড়পত্র চেয়েছিল নেপাল সরকার। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই এই ব্যবস্থা।
তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ভারতের জন্যও খুব সহজ ছিল না। বর্তমানে আবহাওয়ার পরিবর্তন, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও গরম এবং কৃষিকাজে সেচের দরুন ভারতেও বিদ্যুতের চাহিদা চরম শিখরে। তাছাড়া এল নিনোর প্রভাবে এ বছর বাতাস ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদন তুলনামূলক কম। নিজস্ব চাহিদা সামাল দেওয়ার চাপ সত্ত্বেও প্রতিবেশীর সংকটে পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ফের তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ (Neighbourhood First) নীতির প্রমাণ দিল।