অফিসের হাসিমুখের আড়ালেই কি চলছে ভয়ঙ্কর মানসিক নির্যাতন? রসিকতা আর হয়রানির সূক্ষ্ম ফারাক বুঝবেন কীভাবে?

কর্মক্ষেত্র হলো আমাদের সারাদিনের একটি বড় অংশ কাটানোর জায়গা। কিন্তু সেই চেনা অফিস এনভায়রনমেন্টই অনেক সময় মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাজের জায়গায় সহকর্মীদের সঙ্গে হালকা রসিকতা বা মজা করা খুবই স্বাভাবিক। এর ফলে কাজের পরিবেশ হালকা হয় এবং মানসিক ক্লান্তিও দূর হয়। কিন্তু এই খুনসুটি বা রসিকতা যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং তা নির্দিষ্ট কোনো কর্মীকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক বা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে, তখন তা আর সাধারণ মজা থাকে না—বরং তা পরিণত হয় মানসিক হয়রানিতে (Harassment)।
অফিসে হরহামেশাই অনেক সময় এই ধরনের ঘটনা ঘটে, যা ভুক্তভোগী ব্যক্তি ভয়ে বা সামাজিক সংকোচে মুখ ফুটে বলতে পারেন না। পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও করপোরেট কালচার বিশারদরা জানাচ্ছেন, রসিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই হয়রানি বা বুলিং চেনা অত্যন্ত জরুরি।
কাজের জায়গায় রসিকতা কখন হয়রানির রূপ নেয়?
বারবার একই ব্যক্তিকে নিশানা করা: কোনো বিশেষ সহকর্মীর শারীরিক গঠন, ব্যক্তিগত জীবন, পোশাক-আশাক বা কথা বলার ভঙ্গি নিয়ে যখন বারবার জনসমক্ষে মশকরা করা হয় এবং তা তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে, তখন তা আর সাধারণ মজা থাকে না।
‘সবই তো মজা!’ বলে এড়িয়ে যাওয়া: নিজের আচরণে কেউ কষ্ট পেলে বা প্রতিবাদ করলে যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি বিষয়টিকে ‘ইগো প্রবলেম’ বা ‘অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা’ বলে এড়িয়ে যান এবং বলেন যে তিনি নিছক মজা করছিলেন, তখন তা এক ধরনের মানসিক ম্যানিপুলেশন।
কাজের দক্ষতাকে খাটো করা: কোনো মিটিং বা দলীয় আলোচনার মাঝে সহকর্মীদের সামনে কারও কাজ বা যোগ্যতা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা এবং তাঁকে সকলের হাসির খোরাক বানানো।
সামাজিকভাবে বয়কট বা কোণঠাসা করা: অফিস আড্ডায় বা প্রফেশনাল গ্রুপে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট কর্মীকে এড়িয়ে চলা কিংবা তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র বা কুৎসিত মন্তব্য ছড়ানো।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের টক্সিক আচরণ চলতে দিলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রথম থেকেই এর বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া দরকার। নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে এই ধরনের আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করা উচিত। প্রয়োজনে কোম্পানির হিউম্যান রিসোর্স (HR) বিভাগ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো যেতে পারে। সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব কেবল একজনের নয়, বরং পুরো টিম বা প্রতিষ্ঠানের।