“ভারতের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের শুরু…” BRICS মিটতেই নয়াদিল্লিকে কিসের ইঙ্গিত দিল ঢাকা?

ভারতের দেওয়া একের পর এক আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে শেষ পর্যন্ত ব্রিকস (BRICS) সামিটে যোগ দেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে পুতিন, মোদী, জিনপিং এবং পেজেশকিয়ানদের বিশ্বমঞ্চে একজোট হওয়ার দৃশ্য দেখার পরই যেন ঢাকার সমীকরণে বিশাল রদবদল ঘটার ইঙ্গিত মিলছে। ব্রিকস সম্মেলন শেষ হতেই ভারতকে বন্ধুত্বের নতুন বার্তা দিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি জানান, ঢাকা চায় নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন করে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানকে পাশে নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান ঢাকা নেওয়ার চেষ্টা করছিল, বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রভাব ও কূটনীতি দেখার পর সেই সুর কিছুটা হলেও নরম করতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

উল্লেখ্য, ভারতে অনুষ্ঠিত দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ সদস্য দেশ না হওয়া সত্ত্বেও বিমসটেক (BIMSTEC) চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এমনকি গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই তাঁর জন্য পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আমন্ত্রণ তুলে রাখা হয়েছিল ভারতের তরফে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বার্তা দিয়েছিলেন, তারেক রহমান এলে তাঁর সফর স্মরণীয় করে রাখা হবে। তবুও ঢাকায় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি সামনে এনে বারবার ভারতের এই বন্ধুত্বের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

তবে সামিট মিটতেই সুর বদলে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমরা চাই নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক শুরু হোক। তবে এটি কোনো বহুপাক্ষিক মঞ্চে নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।” একই সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের ভারত-আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভারতের সঙ্গে যেমন ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত, তেমনই অন্য অন্যান্য দেশের মতোই ভারতকে একটি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দেখা দরকার।”

শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়া নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াত-ই-ইসলামির ভারতবিরোধী অবস্থান অত্যন্ত তুঙ্গে। সেই রাজনৈতিক চাপ বজায় রেখেই এবার ভারসাম্যের কূটনীতি চালনার চেষ্টা করছে ঢাকা।

এদিকে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক রহমান। সেখানে ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর একটি সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে। ওয়াশিংটনের সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক মুখেই ভারতের প্রতি সুর নরম করে আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখারই চেষ্টা করছে বাংলাদেশ সরকার, এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *