স্বামীকে বাবা-মায়ের থেকে আলাদা রাখলেই কেলো! ডিভোর্স নিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই রায় জানলে মাথা ঘুরে যাবে

দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল বা পারিবারিক অশান্তি নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিয়ের পর স্ত্রীকে খুশি করতে গিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের থেকে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া কি স্বামীর জন্য মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে? এই প্রশ্নটির অত্যন্ত কড়া ও যুগান্তকারী উত্তর দিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, কোনো স্ত্রী যদি তাঁর স্বামীকে বাবা-মায়ের থেকে আলাদা থাকতে বাধ্য করেন এবং বিনা কারণে দীর্ঘ সময় বাপের বাড়িতে থাকেন, তবে তা স্পষ্টতই মানসিক নির্যাতনের (Mental Cruelty) পর্যায়ে পড়ে এবং এটি বৈধ বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম বড় কারণ হতে পারে।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের মূল বিষয়গুলি একনজরে:
-
মামলার পটভূমি: সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি পিটি আশা এবং বিচারপতি এন মালারের ডিভিশন বেঞ্চে একটি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা ওঠে। এক স্বামী তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্সের আবেদন করেছিলেন। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, স্ত্রী তাঁকে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের থেকে জোর করে আলাদা করে দিয়েছেন এবং আলাদা বাড়িতে থাকার পরেও তিনি বেশিরভাগ সময় বাপের বাড়িতেই কাটিয়ে আসতেন। স্ত্রী সেই মামলা খারিজের আর্জি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত তা খারিজ করে দেয়।
-
মানসিক নির্যাতনের সংজ্ঞা: আদালত জানিয়েছে, যে ব্যক্তি তাঁর বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান, তাঁকে জোর করে আলাদা করা এবং বারবার তাঁকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার ঘটনা স্বামীর মনে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। সামান্য ঝামেলা হলেই স্ত্রী সম্পর্ক ছেড়ে চলে যাবেন—এই ভয় দাম্পত্য জীবনে তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
-
পারস্পরিক বোঝাপড়ার বার্তা: ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, বৈবাহিক সম্পর্ক শুধু একজনের ইচ্ছায় চলতে পারে না। পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা এবং মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতাই হলো সুস্থ সম্পর্কের চাবিকাঠি। একে অপরের ওপর নিজের সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দিলে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই তাৎপর্যপূর্ণ রায় বর্তমান সমাজের পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের আবহে এক বিরাট বার্তা দিল বলেই মনে করছে আইনি মহল।