শুধু গাজর খেলেই কি চোখের চশমা উধাও হবে? ডাক্তাররা যা বলছেন শুনলে চোখ কপালে উঠবে!

ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের চোখ যেন স্ক্রিনের বন্দি! অফিসের ল্যাপটপ কিংবা হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন— একটানা তাকিয়ে থাকার ফলে চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। অনেকেই মনে করেন, রোজ একটা করে গাজর বা শাকসবজি খেলেই বুঝি চোখের সমস্ত সমস্যা ম্যাজিকের মতো উধাও হয়ে যাবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সত্যিটা একেবারেই তা নয়!
গাজর আর শাকসবজির আসল রহস্য কী?
ভিটামিন এ চোখের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গাজর, মিষ্টি আলু ও পালং শাকে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে শুধু ভালো খাবার খেলেই রাতারাতি চশমার পাওয়ার কমে যাবে— এমনটা ভাবলে মারাত্মক ভুল করবেন। চোখের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি সঠিক লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রাও সমানভাবে প্রয়োজন।
চোখ বাঁচাতে যে মারাত্মক ভুলগুলি এড়াবেন:
-
অন্ধকারে মোবাইল ঘাঁটবেন না: অনেকেই রাতের বেলা ঘরের সমস্ত আলো নিভিয়ে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। এর ফলে ফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিনের মারাত্মক চাপ পড়ে চোখের ওপর এবং চোখের পেশি খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। ঘরের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমানো বা রাখা উচিত।
-
বিখ্যাত ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মানুন: একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক ফেলার হার কমে যায়, ফলে চোখ শুকিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতি ২০ মিনিট অন্তর কাজ থামিয়ে অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। পাশাপাশি সচেতনভাবে ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন।
-
চশমার পাওয়ার কি খাবার দিয়ে কমে? যাঁদের জন্মগত বা চোখের ত্রুটির কারণে চশমা নিতে হয়েছে, তাঁদের পাওয়ার কেবল খাবার বা ব্যায়াম দিয়ে কমানো সম্ভব নয়। চোখ ক্লান্ত লাগলে ঠান্ডা ভেজা কাপড় দিয়ে আরাম দিতে পারেন, তবে চোখে তীব্র সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থ জীবনশৈলী, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়ম করে চোখকে বিশ্রাম দিলেই আগামী দিনে বড় ধরনের চোখের সমস্যা থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।