মোদীর গালা ডিনারে গেলেন না জিনপিং, চীন প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে তুঙ্গে কৌতূহল

৭ বছর পর ভারতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে যোগ দিলেন না চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সম্মানে এই বিশেষ ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি স্তরে কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও, কূটনৈতিক মহলের একটি সূত্র জানিয়েছে যে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার জন্যই তিনি সম্ভবত হোটেলে ফিরে গিয়েছিলেন।
শনিবার দুপুরে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরই ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন শি জিনপিং। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবهয়ে তাঁর এই ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের পর রাষ্ট্রপ্রধানদের ওই বিশেষ নৈশভোজে তাঁর উপস্থিতি না থাকা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। চিনা প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি এই ডিনারে অনুপস্থিত ছিলেন আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মহম্মদও, যিনি সম্মেলন শেষেই নিজ দেশে ফিরে গিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত এই জমকালো নৈশভোজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও এই ভোজে আমন্ত্রিত ছিলেন। সংসদ ভবন থেকে বিশেষ বাসে করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা ভারত মণ্ডপমে পৌঁছান।
রাষ্ট্রীয় এই নৈশভোজের মেনুতেও ছিল ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ছোঁয়া। খাবার টেবিলে পরিবেশন করা হয়েছিল খান্ডভি মিল-ফয়, খুম্ব গালৌটি, পনির লাবাবদার, গুচ্ছি মারমিক এবং মিলেট পোলাও। আর ডেসার্ট বা মিষ্টিমুখের পর্বে ছিল পুরনো দিল্লির বিখ্যাত ফ্রুট ক্রিম, জিলিপি এবং শাহী ফিরনি।
১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর চলা এই ব্রিকস সম্মেলনে ১১টি সদস্য দেশ এবং ১০টি পার্টনার দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের ফাঁকে এই হাই-প্রোফাইল ডিনার ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।