মোদীর হুঙ্কারে থরহরিকম্প! ব্রিকসে এল ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণাপত্র’, বড় চাপে আমেরিকা?

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণাপত্র ২০২৬’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পেশ করা এই খসড়ায় সদস্য দেশগুলোর কোনো আপত্তি না আসায় তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। নয়াদিল্লির এই ঘোষণাপত্রে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নানা ইস্যুর পাশাপাশি ভবিষ্যতের রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়েছে।

সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের ওপর তীব্র জোর দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিশ্ব যেভাবে দ্রুত বদলে চলেছে, তাতে পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলো আর এই পরিবর্তন সামলাতে পারছে না। বৈশ্বিক কাঠামোগুলোয় প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি এবং বিধি প্রণয়ন প্রক্রিয়ার আমূল পরিবর্তনের সময় এসে গেছে।

ঘোষণাপত্রের সবচেয়ে বড় দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ ও সংঘাত প্রতিরোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব। আন্তর্জাতিক বিরোধ মেটাতে কূটনীতি ও সংলাপের পথ বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া একতরফা শুল্ক এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের পরিপন্থী নন-ট্যারিফ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি এবং আন্তঃসীমান্ত অর্থপ্রদান ব্যবস্থার মতো জটিল বিষয়গুলোতেও পারস্পরিক ঐকমত্যের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই ঘোষণাপত্রের ৪০ নম্বর দফায় পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ে রক্তপাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে চিন ও রাশিয়া সহ সমস্ত সদস্য দেশ এই সন্ত্রাসবাদী ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছে।

গ্লোবাল সাউথের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে তাদের সমান অংশগ্রহণের দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ব্রিকস-এর কুড়ি বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ সামিটেই দুটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়। সম্মেলন শেষে বিশ্বনেতাদের করমর্দন এবং আলোচনা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *