ব্রিকসে বিরাট কূটনীতি ভারতের! ইরান-আমিরশাহির বৈরিতা এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও পহেলগাঁও নিয়ে ঐতিহাসিক ঐকমত্য

ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনেই অভূতপূর্ব কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করল ভারত। ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তীব্র ভূরাজনৈতিক বিরোধ ও বিপরীতমুখী অবস্থানকে পাশ কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলা নিয়ে সর্বসম্মত যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হলো। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকদের মতে, দুই মেরুর দেশগুলোকে এক টেবিলে বসিয়ে এই ঐকমত্যে পৌঁছানো দিল্লির মুকুটে এক নতুন কূটনৈতিক পালক যোগ করেছে।
ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলির পরস্পরবিরোধী স্বার্থ। ইরান এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত থাকায় প্রথম থেকেই চেয়েছিল ব্রিকস মঞ্চ থেকে আমেরিকা-বিরোধী আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়া হোক। অন্যদিকে, আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ওয়াশিংটনের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো প্রস্তাবে সায় দিতে নারাজ ছিল। এই দুই শক্তির টানাপোড়েন এড়িয়ে ভারত যেভাবে মধ্যপন্থা বজায় রেখে যৌথ ঘোষণা আদায় করেছে, তা বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান মধ্যস্থতাকারী দক্ষতারই স্পষ্ট প্রমাণ।
পাশাপাশি, যৌথ ঘোষণাপত্রে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সদস্য দেশগুলি একসুরে জানিয়েছে যে, সন্ত্রাসের কোনো রূপকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের যাতায়াত, সন্ত্রাসে অর্থের জোগান এবং নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই মঞ্চ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন যে, সন্ত্রাসবাদের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো ধরনের দ্বিচারিতার জায়গা নেই। সুবিধা অনুযায়ী অবস্থান না বদল করে সন্ত্রাস দমনে নীতিগতভাবে লড়াই চালানোর তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোর মধ্যে দ্রুত ‘কমপ্রিহেনসিভ কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম’ (CCIT) গ্রহণের পক্ষে সওয়াল করেছে ব্রিকস। সব মিলিয়ে, ব্রিকসের এই যৌথ অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের দাবিকে আরও জোরালো করল।