জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হচ্ছে না! রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম নিয়ে হুঙ্কার ছেড়ে কী বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?

আসন্ন নির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হচ্ছে না—নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এমনটাই স্পষ্ট করে দিলেন কালীঘাট তৃণমূলপন্থী বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, যতক্ষণ না কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জোড়াফুল প্রতীকে লড়াই করার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা এই প্রতীকেই প্রার্থী দেবেন এবং লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিট বৈঠক করে দুই পক্ষই নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে। বৈঠক শেষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁরা কমিশনের সামনে সমস্ত আইনি ও বাস্তব যুক্তি পেশ করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের জমা দেওয়া নথি প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা কী নথি জমা দিয়েছেন, তা তাঁদের জানানো হয়নি। এছাড়া হাইকোর্টের বিভিন্ন নির্দেশ ও আইনি প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, জোড়াফুল প্রতীক ও দলের বৈধতা নিয়ে তাঁদের অবস্থান অত্যন্ত শক্ত।
অন্যদিকে, কমিশনের দরজা থেকে বেরিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁরা কমিশনের সমস্ত প্রশ্নের উপযুক্ত নথি ও তথ্য দিয়ে জবাব দিয়েছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব প্রতীক ও নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেশাগত জীবন ও আইনি ফি নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ শানান ঋতব্রত।
যার পাল্টা জবাব দিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি পোড় খাওয়া আইনজীবী তথা বিধায়ক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রতকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, তাঁর পিছন েলাগিয়ে কোনো লাভ নেই। আইনি লড়াই লড়ে তিনি ফি নিয়েছেন এবং তার সমস্ত ট্যাক্সও যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। উল্টোদিকে ঋতব্রতকে আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, “তৃণমূলকে নিজের সম্পত্তি মনে করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএম দল থেকে এসে হঠাৎ ভোটে দাঁড়িয়ে আজ বড় বড় কথা বলছেন!” সব মিলিয়ে প্রতীক নিয়ে এই দুই শিবিরের দড়িটানাটানি এবং বাক্যযুদ্ধে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে।