“যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে তেলের রুট!”-বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের কালো ছায়া, ভারতের কপালে কি চরম দুর্দিন?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংঘাতে ফের একবার বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কটের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে সৌদি আরব এবং বাব আল মানদেব—বিশ্ব অর্থনীতির এই তিনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট এখন চরম ঝুঁকির মুখে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের বাজারেও, যার জেরে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির দাম নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন তৈরি হচ্ছে জ্বালানি সঙ্কট? বিশ্বের তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী, সৌদি আরবের পাইপলাইন এবং বাব আল মানদেব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিসংখ্যান বলছে, কেবল হরমুজ প্রণালী দিয়েই পৃথিবীর প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এছাড়া সৌদি আরবের পাইপলাইন থেকে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ ব্যারেল এবং বাব আল মানদেব প্রণালী থেকে প্রায় ৫ থেকে ১২ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। ইরাক থেকে ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবে সাময়িকভাবে অপরিশোধিত তেলের পাইপলাইন বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাশাপাশি, ইয়েমেনের হুথি জঙ্গিরা বাব আল মানদেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কাছাকাছি চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
বিশ্ব ও ভারতের উপর কী প্রভাব পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিনটি পথ যদি সম্পূর্ণ বা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ব বাজারে প্রায় ৩০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। যার জেরে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে ভারত, চিন এবং ইউরোপের মতো দেশগুলি। এই সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়লে ভারতে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। শুধু তাই নয়, আমদানিকৃত কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির জেরে শেয়ারবাজারেও বড়সড় ধস নামার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
যদিও স্বস্তির বিষয় হলো, ভারত বর্তমানে তার জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একাধিক বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে তেল আমদানি করে থাকে। তবুও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটলে তার পরোক্ষ প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও এসে পড়বে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই গভীর দুশ্চিন্তায় অর্থনৈতিক মহল।