প্রধান শিক্ষককে মারধরের পরেই বড় পদক্ষেপ! কড়া শাস্তির মুখে জলপাইগুড়ি স্কুলের কোন পড়ুয়ারা?

জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের উপরে হামলার ঘটনায় এক ছাত্রকে আটক করেছে কোতয়ালি থানার পুলিশ। শনিবার ধৃত ওই ছাত্রকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে হাজির করানো হবে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও যারা যুক্ত রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে শনিবারের মধ্যেই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট বা টিসি দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।

শুক্রবার জলপাইগুড়ির ওই স্কুলে জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় ২২টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মন্ত্রী। সেই বৈঠকেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা ঘটেছে এবং সমাজে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, হামলায় যুক্ত বাকি ছাত্রদের চিহ্নিত করার জন্য চার সদস্যের একটি বিশেষ টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদের টিসি দেওয়া হলেও তারা যাতে অন্য কোনো স্কুলে ভর্তি হতে পারে, সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখবে জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবারের ওই ঘটনার পর তিন দিন কেটে গেলেও কেন অভিযুক্ত ছাত্রদের চিহ্নিত করতে পারল না স্কুল কর্তৃপক্ষ, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর নেপথ্যে কোনো বহিরাগতের ইন্ধন রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবারের বৈঠকে মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দেন উপস্থিত অভিভাবকরা। প্রধান শিক্ষককে অবিলম্বে অন্যত্রে বদলি করার দাবিও জানানো হয়।

অভিভাবক কৃষ্ণা রায়ের দাবি, এই ঘটনার ফলে স্কুলের মান সম্মান দারুণভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে ছাত্র ভর্তি, শিক্ষিকার শ্লীলতাহানি এবং শিক্ষকদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার মতো বহু পুরনো অভিযোগও সামনে এনেছেন অভিভাবকরা।

অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিমেশ অধিকারী জানিয়েছেন, মন্ত্রীর নির্দেশমতো দোষী ছাত্রদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হলেও এতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ যে স্থানে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সেখানে সিসি ক্যামেরা সক্রিয় ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন স্কুলে একটি অনুষ্ঠান থাকায় এই হামলায় কোনো বহিরাগত বা বাইরের লোক যুক্ত ছিল কি না, তাও পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *