ছত্তিশগড়ের যে খেত থেকে মিলেছিল হিরে, আজ সেখানেই লহ লহ করছে ফসল! প্রশাসনিক জট ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে হতবাক কৃষকের

খবরের শিরোনামে উঠে আসা ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) মহসমুদ জেলার দেবভোগ অঞ্চল আবারও এক অদ্ভুত ও ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। যে জমির বুক চিরে হিরের সন্ধান মিলেছিল এবং যার মধ্যে একটি হিরের ওজন ছিল ১.২২ ক্যারেট, সেই খামারটিতে আজ আবারও নতুন করে ফসল লহ লহ করে বেড়ে উঠছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, জমির মালিক কৃষক যোগেশ্বর এখনও জানেন না যে তাঁর এই উর্বর জমির আসল ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে। খনির জন্য জমি সংরক্ষিত হওয়ার কথা বাতাসে ভাসলেও হাতে এসে পৌঁছায়নি কোনো লিখিত অধিগ্রহণের নির্দেশ কিংবা ক্ষতিপূরণের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য। মাসের পর মাস ধরে চলা এই প্রশাসনিক গড়িমসি ও মানসিক টানাপোড়েন কৃষকের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

হিরে মিললেও নেই কোনো লিখিত নির্দেশ
পুরো ঘটনাটি ঘটেছে দেবভোগ এলাকার পৈকিন গ্রামে। কৃষক যোগেশ্বরের জমিতে হিরের সন্ধান পাওয়ার পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে বড়সর খননকার্য ও খনি তৈরির সম্ভাবনার কথা জোরালোভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাস্তবে ঘটনাস্থলে কোনো তদন্তকারী দল বা আধিকারিকরা আর পা রাখেননি।

ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষক বাধ্য হয়েই প্রশ্ন তোলেন যে তাঁর জমির শেষ পরিণতি কী হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত নির্দেশ বা সরকারি নোটিশ না আসায়, শেষমেশ বাধ্য হয়েই তিনি ওই জমিতে পুনরায় চাষবাস শুরু করেন। বর্তমানে সেখানে ফসল দাঁড়িয়ে থাকলেও মনে কাটছে না শঙ্কা। নিয়ম অনুযায়ী ওই হিরে সমৃদ্ধ এলাকাটিকে খনির জন্য পাকাপাকিভাবে সংরক্ষিত করার কথা ছিল, কিন্তু তার কোনো আইনি বা লিখিত কাগজপত্র আজও কৃষকের কাছে পৌঁছায়নি।

কী সাফাই দিল প্রশাসন?
প্রশাসনের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ওই নির্দিষ্ট জমির তলদেশে হিরে থাকার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে এর পরবর্তী যাবতীয় প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া, আইনি ছাড়পত্র এবং লিজ সংক্রান্ত কাগজ তৈরি করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আর সেই কারণেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সামান্য বিলম্ব হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই ঢিমেতা নীতিকে তীব্র কটাক্ষ করে অভিযোগ তুলেছেন যে, এ ধরনের স্পর্শকাতর मामलों দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় ভূমি মাফিয়ারা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। যদিও এই অভিযোগের কোনো স্বাধীন বা দাপ্তরিক সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

১৫ বছর আগের ইঙ্গিত ও ২০০ টন মাটির রহস্য
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, মহসমুদের বলোধা বেলমুন্ডি হিরে ব্লকে আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগেই প্রথমবার হিরে লুকিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছিল। এরপর চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এনএমডিসি (NMDC) এবং ছত্তিশগড় খনিজ বিকাশ নিগম যৌথভাবে পৈকিন গ্রামে নতুন করে খোঁজখবর ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে।

কৃষক যোগেশ্বরের খেতটিকে মূল কেন্দ্রবিন্দু ধরে চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ড্রিলিং করা হয়। সেই সময় ওই জমিতে প্রায় ৫০ ফুট লম্বা, ৫০ ফুট চড়া এবং ৫০ ফুট গভীর একটি বিশাল গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। খননকাজে উঠে আসা প্রায় ২০০ টন মাটি বড় বড় ট্রাকে ভরে মধ্যপ্রদেশের একটি বিশেষ ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেই পরীক্ষাতেই মোট পাঁচটি আসল হিরে পাওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছিল। বর্তমানে হিরেগুলির নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও যোগেশ্বরের প্রধান প্রশ্ন হলো—তাঁর জমির মালিকানার কী হবে? জমি কি পুরোপুরি অধিগ্রহণ করা হবে, নাকি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়ে চাষবাস করার অনুমতি মিলবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে এখনও প্রহর গুনছেন ওই সাধারণ কৃষক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *