রাতভর বৃষ্টিতে পাহাড়ে ফের বিপর্যয়! দুধিয়ায় ভেসে গেল রাস্তা, মিরিক যাওয়ার পথে তুমুল বিপত্তি

উত্তরবঙ্গজুড়ে রাতভর চলা অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে ফের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পাহাড়ি নদীগুলি। তিস্তা ও বালাসনের বাড়তে থাকা জলস্রোতের জেরে মিরিক এবং শিলিগুড়ির সংযোগকারী স্থান দুধিয়ায় নির্মিত অস্থায়ী হিউম পাইপ সেতুর একটি বড় অংশ জলের তোড়ে ভেসে গেছে। এর জেরে শিলিগুড়ি থেকে মিরিকগামী সরাসরি যোগাযোগের পথ বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কর্পসের তৈরি করা বেইলি ব্রিজটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।

দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিক জানিয়েছেন, দুধিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হিউম পাইপ সেতুটি দিয়ে ভারী যান চলাচল শুক্রবার থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেনার তৈরি বেইলি ব্রিজ দিয়ে বর্তমানে শুধুমাত্র হালকা যান এবং পর্যটকদের ছোট গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সেতুটির বহন ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ধারাবাহিক ধস ও বিধিনিষেধের জেরে এলাকায় আটকে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বিকল্প পথের নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। শিলিগুড়ি থেকে মিরিক বা কার্শিয়াং যাওয়ার জন্য পাঙ্খাবাড়ি রোড, ঘুম, পানিঘাটা-টিংলিং অথবা নকশালবাড়ি হয়ে ঘুরপথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীর জল কমলে দ্রুত দুধিয়া সেতু মেরামতের কাজ শুরু হবে। উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মাত্র ১৯ দিনে রেকর্ড সময়ে তৈরি হওয়া এই বেইলি ব্রিজের মাধ্যমেই এখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

এদিকে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে মিরিকের গ্রাম পঞ্চায়েত ২ নম্বর এলাকার পালজোর গ্রামে নতুন করে ভয়াবহ ধস নেমেছে। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা কাদা ও পাথরের স্তূপে বসতি এলাকার বিপদ বাড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের পক্ষ থেকে পালজোর গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সিকিম আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দার্জিলিংয়ে ৩৫.২, কালিম্পংয়ে ২১.০ এবং শিলিগুড়িতে ৩৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সমতলের জেলাগুলির মধ্যে জলপাইগুড়িতে সর্বোচ্চ ৬৮.২ মিলিমিটার এবং কোচবিহারে ৫৭.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া মালদায় ৬৭.৬, বালুরঘাটে ৩৫.০ এবং রায়গঞ্জে ৪৪.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত করেছে আবহাওয়া দফতর।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *