একই নামে কি একাধিক বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ পাওয়া যায়? জেনে নিন নিয়মগুলি

ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার গৃহস্থালি রান্নার চেয়ে অনেকটাই আলাদা। অনেক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর মনেই প্রশ্ন থাকে যে, কোনও ব্যক্তি বা একক প্রতিষ্ঠান নিজের নামে একসঙ্গে একাধিক বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ নিতে পারবেন কি না। রান্নার গ্যাস এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের নিয়মের মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, যা ব্যবসা শুরু করার আগে জেনে রাখা দরকার।
এলপিজি বিতরণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, গৃহস্থালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতি পরিবারে একটির বেশি সংযোগ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ভিন্ন। নিয়মানুযায়ী, ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ নেওয়া সম্ভব। ফলে আপনার একাধিক দোকান বা রেস্তোরাঁ থাকলে প্রতিটি জায়গার জন্য আলাদা সংযোগের আবেদন করা যায়।
কীভাবে পাবেন বাণিজ্যিক সংযোগ? প্রতিটি বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগের আবেদনের জন্য বৈধ ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে জিএসটি নম্বর, শপ অ্যাক্ট লাইসেন্স এবং ট্রেড লাইসেন্স। তবে যদি কোনও একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানেই অতিরিক্ত গ্যাসের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে আলাদা একাধিক সংযোগ নেওয়ার চেয়ে বড় সিলিন্ডার বা ‘বাল্ক এলপিজি ম্যানিফোল্ড সিস্টেম’-এর জন্য আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
গ্যাস মজুত করার নিয়ম বাণিজ্যিক সিলিন্ডার মজুত বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সরকারি বিধি রয়েছে। সাধারণত কোনও অতিরিক্ত লাইসেন্স ছাড়াই একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ১০০ কেজি পর্যন্ত এলপিজি মজুত করা যায়। অর্থাৎ ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ব্যবহার করলে একসঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচটি সিলিন্ডার রাখা সম্ভব। এর বেশি গ্যাস মজুত করতে হলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আউটলেট থাকলে প্রতিটির জন্য আলাদা সংযোগ নেওয়া যেতে পারে।
কারা পাবেন এই সংযোগ? বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মাপকাঠি পূরণ করতে হয়। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বৈধ ব্যবসায়িক নথিপত্র যেমন জিএসটি নম্বর, ফুড লাইসেন্স বা ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে হবে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া এই সংযোগ পাওয়া সম্ভব নয়। নিয়ম না মেনে বাণিজ্যিক গ্যাস ব্যবহার করলে বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে।
বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালি গ্যাসের মূল ফারাক ১. গৃহস্থালি গ্যাস শুধু বাড়ির রান্নার কাজে লাগে, আর বাণিজ্যিক গ্যাস হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত হয়। ২. গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের ওজন ১৪.২ কেজি হলেও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ওজন হয় ১৯ কেজি। ৩. বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম গৃহস্থালি গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি এবং এতে কোনও সরকারি ভর্তুকি পাওয়া যায় না।