সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও কেন আত্মহননের পথ বেছে নিলেন হেভিওয়েট তারকারা? বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে ফিরে দেখা

আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। গ্ল্যামার ও খ্যাতির দ্যুতিতে মোড়া বিনোদন জগতের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার দিকটি মনে করিয়ে দেওয়ার দিন আজ। খ্যাতি, অর্থ ও অনুরাগীদের ভালোবাসার কমতি ছিল না, অথচ জীবনের কঠিন চাপের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন বহু প্রতিভাবান তারকা। যাঁদের অকালমৃত্যু আজও মেনে নিতে পারেনি দেশবাসী।
বলিউডের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় নিজের পায়ের নিচে মাটি শক্ত করার পর ২০২০ সালের জুন মাসে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তাঁর এই ট্র্যাজেডি বিনোদন জগতের অন্দরের মানসিক চাপ এবং নিঃসঙ্গতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় স্তরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
একইভাবে ২০০৭ সালে ‘নিঃশব্দ’ ছবির মাধ্যমে ডেবিউ করে অল্পদিনেই নজর কাড়া অভিনেত্রী জিয়া খানের ২০১৩ সালের মৃত্যুও দাগ কেটেছিল ভক্তদের মনে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাঁর এই পরিণতি ইন্ডাস্ট্রির এক অসমাপ্ত অধ্যায় হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ‘বালিকা বধূ’-র ‘আনন্দী’ অর্থাৎ প্রত্যুষা ব্যানার্জীর ২০১৬ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে চলে যাওয়া, কিংবা ২০১৯ সালে অভিনেতা কুশল পাঞ্জাবী ও ২০২০ সালে তরুণী অভিনেত্রী সেজল শর্মার প্রয়াণ—প্রতিটি ঘটনাই প্রমাণ করেছে যে খ্যাতির আলোয় থাকা মানুষগুলোর মনের অন্দরেও চলতে থাকে এক অদ্ভুত অদৃশ্য লড়াই। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে এই শিল্পীদের স্মরণ করার অর্থ কেবল তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা।