কলম ভেঙে যাওয়ায় নিজের দাঁত দিয়েই লিখেছিলেন মহাভারত! কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্বয়ং গণেশ?

হিন্দু ধর্মে গণেশ চতুর্থী থেকে শুরু হওয়া গণেশ উৎসব অত্যন্ত ভক্তি ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপিত হয়। বিঘ্নহর্তা ভগবান গণেশকে নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনী। তাঁর বুদ্ধি, ত্যাগ এবং রূপের বহু বর্ণনার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় হলো তাঁর এক দাঁত ভাঙার রহস্য। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, সমস্ত ছবির মতো প্রতিমাতেও কেন গণেশজিকে ‘একদন্ত’ রূপে দেখা যায়? এর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে মহাভারত রচনার এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

মহাভারত লেখার শর্ত এবং গণেশজি

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মহর্ষি বেদব্যাস মহাগ্রন্থ মহাভারত রচনার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু এই বিশাল গ্রন্থটি লেখার জন্য এমন এক প্রতিভাবান লেখকের প্রয়োজন ছিল যিনি দ্রুত লিখতে পারেন। এই কাজের জন্য তিনি বেছে নেন ভগবান গণেশকে। তবে কাজ শুরু হওয়ার আগে গণেশজি বেদব্যাসের কাছে একটি শর্ত রাখেন। তিনি জানান, ব্যাসজিকে একটানা না থেমে মহাভারতের শ্লোক বলে যেতে হবে, আর তিনি যদি মাঝে থেমে যান, তবে গণেশজিও লেখা বন্ধ করে দেবেন।

ব্যাসজিও পাল্টা শর্ত দেন যে, গণেশজিকে প্রতিটি শ্লোকের অর্থ বুঝে তবেই তা লিখতে হবে। এই শর্ত মেনেই শুরু হয় মহাভারত লেখার মহাযজ্ঞ। উত্তরাখণ্ডের চামোলী জেলার বিখ্যাত মানা গ্রামের গণেশ গুহায় বসে এই মহাকাব্যের लेखन কাজ হয়েছিল বলে মানা হয়।

যখন ভেঙে ফেলতে হয় নিজের দাঁত

মহাভারতের শ্লোক লেখার কাজ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল। ঠিক এমন সময়ই ঘটে বিপত্তি—হঠাৎ করেই ভেঙে যায় গণেশজির লেখার কলম! শর্ত অনুযায়ী কাজ থামানোর কোনো উপায় ছিল না, কারণ বেদব্যাস একটানা শ্লোক বলে যাচ্ছিলেন।

লেখার কাজ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই মুহূর্তে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে গণেশজি নিজের একটি দাঁত ভেঙে ফেলেন। সেই দাঁতকেই কলম বা লেখনী হিসেবে ব্যবহার করে তিনি মহাভারত লেখার কাজ চালিয়ে যান। দেবতারাও তাঁর এই অতুলনীয় ত্যাগ ও সংকল্প দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। আর ঠিক এই ঘটনার পরেই ভগবান গণেশ ‘একদন্ত’ নামে পরিচিত লাভ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *