১০ হাজার ঢাকের তালে পুজোর মেগা উদ্বোধন, মহাউৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী?

নতুন ধাঁচে দুর্গাপুজোর ঐতিহাসিক উদ্বোধনের সাক্ষী থাকতে চলেছে বাংলা। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামে বসছে এক মেগা উদ্বোধনী আসর। দেবীপক্ষের সূচনায় এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজে হাতে মাতৃমূর্তির চক্ষুদান করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিরাট আয়োজনকে সফল করতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য সরকার।
ক্রীড়া দফতরের পক্ষ থেকে সিএবি (CAB)-র কাছে চিঠি পাঠিয়ে আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সের বুকিং চাওয়া হয়েছে। শুধু মহালয়ার দিনটিই নয়, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে ২১ দিনের জন্য ইডেন চাওয়া হয়েছে রাজ্যের পক্ষ থেকে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিএবি প্রধান সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মহালয়ার দিন প্রধানমন্ত্রী ইডেনে উপস্থিত থাকাটা বাংলার জন্য বিরাট প্রাপ্তি। ২০২০ সালে আমেদাবাদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এমন একটি মেগা ইভেন্ট তিনি দেখেছেন উল্লেখ করে সৌরভ জানান, তবে ইডেনের এই অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যায় হওয়ায় আলো ও ড্রোনের রোশনাইয়ে এক অনন্য মাত্রা যোগ করবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানের যে ব্লু-প্রিন্ট সামনে এসেছে, তাতে থাকছে এলাহি আয়োজন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যখন মুখ্যমন্ত্রী ইডেনে প্রবেশ করবেন, তখন এক হাজার মহিলার উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে গোটা চত্বর। একই সঙ্গে বেজে উঠবে ১০ হাজার ঢাক। স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় শ্রেয়া ঘোষালের গানে মুখরিত হবে প্রাঙ্গণ। এর আগে রেড রোড ধরে একটি বর্ণাঢ্য রোড শোয়ের আয়োজন করা হবে, যেখানে বাংলার ২৩টি জেলার ২৩ ধরনের ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য—যেমন দার্জিলিংয়ের তামাং সেলো, পুরুলিয়ার ছৌ, মালদহের গম্ভীরা বা বীরভূমের বাউল পরিবেশিত হবে।
বিকেল ৪টে থেকে শুরু হতে চলা এই ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে একসঙ্গে রাজ্যের প্রায় ১০ হাজার দুর্গাপুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করা হবে। পাশাপাশি ‘মা আসছে-উমা স্টোরি’ থিমে থ্রি-ডি প্রজেকশন ম্যাপিং শোয়ের অত্যাধুনিক ব্যবস্থাও থাকছে। সবমিলিয়ে মহালয়ার সন্ধ্যায় ক্রিকেট নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্স যে এক রূপকথার মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।