রিলায়েন্স জিও থেকে এনএসই— বাজারে আসছে একের পর এক মেগা আইপিও! বিনিয়োগকারীদের লাভ হবে নাকি লোকসান?

ভারতীয় প্রাইমারি মার্কেটে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটতে চলেছে। সেবি-র (SEBI) অনুমোদন পাওয়া এবং পাইপলাইনে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির আইপিও (IPO) মিলিয়ে বাজারে মোট ৪.৬৭ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ফান্ড আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিরাট জোয়ারে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) থেকে শুরু করে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর জিও প্ল্যাটফর্মস (Jio Platforms) এবং জেপ্টো, ফোনপের মতো নামী-দামী স্টার্টআপগুলিও শেয়ার বাজারে নামতে চলেছে।
কত বড় এই আইপিও পাইপলাইন?
তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫৮টি কোম্পানিকে আইপিও-র মাধ্যমে ২.৯৬ লক্ষ কোটি টাকা তোলার জন্য সেবি ইতিমধ্যে সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, আরও ৭২টি কোম্পানি প্রায় ১.৭০ লক্ষ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যে ড্রাফট পেপার জমা দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪,৬৬,৯৩০ কোটি টাকার সম্ভাব্য আইপিও বাজার কাঁপাতে প্রস্তুত। এর মধ্যে জিও প্ল্যাটফর্মস দেশের আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আইপিও নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা চলতি বছরের অক্টোবর বা নভেম্বর নাগাদ বাজারে আসতে পারে।
সেকেন্ডারি মার্কেট ও সেনসেক্সের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
এত বিপুল পরিমাণ আইপিও বাজারে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— তবে কি সেনসেক্স ও নিফটির মতো সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে সমস্ত টাকা তুলে নিয়ে মানুষ আইপিওর দিকে ঝুঁকবে?
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই। দেশের ইকুইটি মার্কেট থেকে টাকা পুরোপুরি উধাও হয়ে যাবে না, বরং এই বিশাল পরিমাণ মূলধন বিভিন্ন ভালো ও মানসম্মত কোম্পানিতে পুনর্বিন্যস্ত (Re-allocation) হবে। প্রতি মাসে মিউচুয়াল ফান্ডের এসআইপি (SIP) ইনপুট এবং বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জোরালো অংশগ্রহণের কারণে এই বিশাল সরবরাহ সহজে সামলে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা এও সতর্ক করেছেন যে, অন্ধের মতো ঝাঁপিয়ে না পড়ে কোম্পানিগুলির সঠিক ভ্যালুয়েশন এবং ব্যবসার মান দেখে তবেই বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।