বিয়ের কয়েকমাস পরেই মর্মান্তিক পরিণতি! হাত-আঙুল কাটা, মাথা আলাদা—স্বামী যা করল ভাবা যায় না!

বিয়ের মাত্র কয়েকমাস পার হতে না হতেই এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকল গুয়াহাটি। একটি অ্যাপার্টমেন্টের বন্ধ ঘর থেকে এক নববধূর ক্ষতবিক্ষত ও পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, ঘরের মধ্যে তল্লাশি চালিয়ে ফ্রিজের ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো মৃতার কাটা মাথাও উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় ইতিমধ্যেই গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিবেশীদের সন্দেহে ফাঁস ভয়ংকর সত্য
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) স্থানীয় প্রতিবেশীরা ওই দম্পতির ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। বেশ কিছুদিন ধরে ওই দম্পতিকে দেখতে না পাওয়ায় এবং তাঁদের ফোন বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। এরপরই তাঁরা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গুয়াহাটি পুলিশ। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় এবং উপস্থিতিতে পুলিশ অ্যাপার্টমেন্টের বন্ধ তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে তাঁরা যা দেখেন, তাতে আঁতকে ওঠেন তদন্তকারীরাও। বিছানায় পড়ে ছিল যুবতীর ছিন্নভিন্ন দেহ। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ও আঙুলগুলি অর্ধেকটা করে কাটা ছিল। মৃতদেহে ইতিমধ্যেই পচন ধরতে শুরু করেছিল এবং মাথাটি উধাও ছিল।
এরপর পুরো বাড়ি তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালাতেই আসল সত্য সামনে আসে। রান্নাঘরের ফ্রিজ খুলতেই চোখ কপালে ওঠে পুলিশের। দেখা যায়, একটি পলিথিন ব্যাগের মধ্যে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে যুবতীর কাটা মুণ্ডুটি। মৃত ওই যুবতীর নাম রিয়া তালুকদার বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের জালে অভিযুক্ত স্বামী
প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত শুক্রবার শেষবার ওই দম্পতিকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকে তাঁদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পুলিশ মৃতার ছিন্ন মাথা ও দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল অভিযুক্ত স্বামী। তবে পুলিশি তৎপরতা টের পেয়ে রবিবার রাতেই সে নিজে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে দীর্ঘ জেরা শুরু করেছে এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে নববধূর ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে খুন করা হলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর পেছনে অন্য কারও হাত রয়েছে কি না, সমস্ত সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।