রান্নার গ্যাসের বুকিংয়ে বিরাট স্বস্তি! গ্রাম ও শহরের ভেদাভেদ মিটিয়ে এলপিজি নিয়ে কেন্দ্রের মেগা ঘোষণা!

রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মাবলীতে বড় ধরনের শিথিলতা আনল কেন্দ্র সরকার। এতদিন গ্রামীণ এলাকায় একটি সিলিন্ডার বুক করার পর পরবর্তী সিলিন্ডার নেওয়ার ক্ষেত্রে ৪৫ দিনের লম্বা ব্যবধান বাধ্যতামূলক ছিল। তবে সেই নিয়ম বদলে এবার থেকে শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলের গৃহস্থালি গ্রাহকরাই মাত্র ২৫ দিন অন্তর নতুন এলপিজি সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন। সোমবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী এই পরিবর্তনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন।
কেন এলপিজি নিয়মে এই বদল?
এর আগে পশ্চিম এশিয়ায় চলা ভূরাজনৈতিক সংঘাতের জেরে দেশে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ শৃঙ্খলে বেশ খানিকটা চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই সঙ্কট সামাল দিতেই দেশজুড়ে বুকিংয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ ও গ্রামীণ এলাকায় ৪৫ দিনের ব্যবধানের নিয়ম চালু করা হয়েছিল।
তবে বর্তমানে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। আগের তুলনায় সিলিন্ডার পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করেই সমস্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাকে অবিলম্বে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমেছে এলপিজির বিক্রি, বাড়ছে পাইপের গ্যাসের ব্যবহার
অন্যদিকে, দেশে সামগ্রিকভাবে গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের বিক্রি কিছুটা হলেও কমেছে। তথ্যানুযায়ী, গত অগস্ট মাসে এলপিজি বিক্রি ১৬.১ শতাংশ কমে ২৪.২ লক্ষ টনে নেমে এসেছে। শিল্পমহলের ধারণা, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের জেরে অনেক গ্রাহক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাসের (PNG) দিকে ঝুঁকেছেন। তবে গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমা কমে ২৫ দিন হওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি যে বড় স্বস্তি পেল, তা বলাই বাহুল্য।