৬২ বছর বয়স পর্যন্ত পদে বহাল! হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিয়োগের এই গোপন ও কড়া নিয়মগুলো জানেন কি?

সংবিধানের নিয়ম মেনে এবং সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়ামের সুপারিশের ভিত্তিতে সম্প্রতি দেশের মোট আটটি হাইকোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মূল দায়িত্বে থাকেন দেশের রাষ্ট্রপতি, যিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপালের সঙ্গে পরামর্শ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেন। আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি ভাল্লুরি কামেশ্বর রাও পাটনা হাইকোর্টের এবং বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন।

ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১৭(১) অনুযায়ী এই বিচারপতির নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। রাজ্যপালের সঙ্গে পরামর্শ করার অর্থ হলো রাজ্য সরকারের (মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা) মতামত নেওয়া, যা এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত আবশ্যিক অংশ। তবে কলেজিয়াম পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়ামের সুপারিশই এখানে চূড়ান্ত এবং নির্ণায়ক হিসেবে গণ্য হয়। রাজ্য সরকার বা রাজ্যপালের মতামত বিচার বিভাগের এই সিদ্ধান্তকে ভেটো দিতে পারে না। সাধারণত হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিরা ৬২ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁদের পদে বহাল থাকেন।

নিয়োগের এই তালিকায় আরও রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নাম। বোম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী। পাশাপাশি, ছত্তিশগড় হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার আগরওয়াল রাজস্থান হাইকোর্টের এবং পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারপতি অশ্বিনী কুমার মিশ্রকে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টেরই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থার শীর্ষ স্তরের এই রদবদল দেশের আইনি ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *