‘বাই-বাই পাপা…’, বাবাকে শেষ ফোন করে চোখের নিমেষে নদীতে ঝাঁপ তরুণীর!

‘এটা আমার জীবন। আমার মন বলছে, আমার এটাই করা উচিত।’ ‘বাই-বাই পাপা!’
ফোনে বাবাকে শেষবারের মতো এই কথাগুলিই বলেছিলেন এক একুশ বছরের তরুণী। আর ঠিক তার পরেই নদীমাতৃক খাদের খরস্রোতা জলে ঝাঁপ! এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা জেলার প্রেমনগরের শিবডাল সেতুতে। খবর পাওয়া মাত্রই নদীতে নেমে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ এবং রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন স্থানীয়রাও। কিন্তু দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও বছর একুশের সেই তরুণীর এখনও পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি।
ঘটনার একটি রোমহর্ষক ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে সমাজমাধ্যমে। জানা গিয়েছে, পথচলতি এক ব্যক্তি সেতুতে ওই তরুণীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহবশত নিজের মোবাইলে পুরো বিষয়টি রেকর্ড করছিলেন এবং দূর থেকে তাঁকে বুঝিয়েসুজিয়ে আটকানোরও আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক এই ঘটনা?
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঠিক কী কারণে ওই তরুণী এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয় তাঁর পরিবারের কাছেও। তরুণীর বাবা কৃষ্ণ লাল পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে দেবী বাড়ি থেকে কাছাকাছি একটি মেলায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়েছিল। কিন্তু মেলায় পৌঁছানোর কিছু সময় পরেই তিনি বাবাকে ফোন করে জানান যে তাঁর শরীর অত্যন্ত খারাপ করছে এবং তিনি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন।
তার কিছু ক্ষণ পরেই কৃষ্ণের কাছে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। যে ব্যক্তির সঙ্গে দেবী ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন, তিনিই ফোন করেছিলেন। সেই সময়েই ফোনটি নিজের হাতে নিয়ে বাবা কৃষ্ণ লাল শুনতে পান, তাঁর মেয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘কেউ আমার সামনে আসবে না!’
বাবা বারবার ফোন ধরেই মেয়ের কাছে আকুল হয়ে কারণ জানতে চান এবং শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তরুণী কিছুই বলতে চাননি। উল্টে বাবাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ‘এটা আমার জীবন। আমার মন বলছে, আমার এটাই করা উচিত। বাই-বাই পাপা!’ আর এই কথা বলেই তিনি চন্দ্রভাগা নদীর সেতু থেকে সোজা নিচে ঝাঁপ দেন। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পরিজনরা। পুলিশ ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা পারিবারিক কোনো চাপ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।