ISRO Success: মহাকাশে ফের ভারতের জয়জয়কা! EOS-05 মিশনে রকেটের ইঞ্জিন তৈরি করে তাক লাগালেন রানিগঞ্জের বাঙালি বিজ্ঞানী

মহাকাশ গবেষণায় ফের বিশ্বমঞ্চে ভারতের মুকুটে নতুন এক উজ্জ্বল পালক যুক্ত হলো। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) সফলভাবে মহাকাশে পাঠিয়েছে সর্বাধুনিক আর্থ অবজারভেশন উপগ্রহ ‘EOS-05’। সম্পূর্ণ দেশীয় বা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রযুক্তিতে তৈরি এই স্যাটেলাইটটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পাড়ি জমিয়েছে। আর এই ঐতিহাসিক মিশনের সাফল্যের নেপথ্যেই রয়েছে এক বঙ্গসন্তানের অসামান্য অবদান। পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জের কৃতি সন্তান সানি মিত্র এই অভিযানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলে এর সাফল্যের পথ প্রশস্ত করেছেন।

ইসরোর একাধিক মিশনে সাফল্যের ধারা

রানিগঞ্জের সিএলএম লেনের বাসিন্দা সানি মিত্র দীর্ঘ আট বছর ধরে ইসরোতে বিজ্ঞানী হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ অভিযানের সময় তিনি এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে দেশের অত্যন্ত সফল চন্দ্রযান-৩ এবং ভারতের প্রথম সৌর অভিযান আদিত্য এল-১ (Aditya L-1) মিশনেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আর এবার ‘EOS-05’ মিশনে রকেটের মূল চালিকাশক্তি তথা ইঞ্জিন প্রস্তুতের মতো কঠিন দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে গোটা রাজ্যের মান উজ্জ্বল করলেন এই তরুণ ইঞ্জিনিয়ার।

কীভাবে সফল হলো এই মিশন?

জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17) রকেটের মাধ্যমে এই উপগ্রহটি মহাশূন্যে পাঠানো হয়েছে। এই অভিযানের জন্য জিএসএলভি রকেটের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন তৈরির দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছে যে বিশেষ টিম, তার অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন সানি। তিনি জানান, রকেটের প্রথম চরণের সঙ্গে যুক্ত থাকা চারটি এল৪০ লিকুইড বুস্টার ইঞ্জিন এবং দ্বিতীয় চরণের জিএস২ ইঞ্জিনের ডিজাইন, অ্যাসেম্বলি ও ফাংশনাল চেকের কাজ করেছেন তাঁরা। টানা প্রায় দু’বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই পাঁচটি ইঞ্জিন নিখুঁত শক্তি জুগিয়ে উপগ্রহটিকে সঠিক কক্ষপথে পৌঁছে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই স্যাটেলাইটে এমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যার ফলে স্পেসক্রাফটের নিজস্ব জ্বালানি অনেকটাই সাশ্রয় হবে। আগামী অন্তত সাত বছর ধরে এই আধুনিক উপগ্রহ মহাকাশ থেকে ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দিয়ে যাবে।

দেশ সুরক্ষায় কতটা কার্যকর এই উপগ্রহ?

নতুন এই ‘EOS-05’ উপগ্রহটি দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তার ক্ষেত্রে এক বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে। এতে রয়েছে চারটি উচ্চপ্রযুক্তির পেলোড। ভারতের ১০০০ বর্গকিলোমিটার থেকে শুরু করে একটি বিশাল এলাকার ওপর এটি ২৪ ঘণ্টা একটানা নজরদারি চালাতে সক্ষম। আবহাওয়া সংক্রান্ত নিখুঁত ডেটা দেওয়ার পাশাপাশি হঠাৎ করে নেমে আসা বন্যা কিংবা শক্তিশালী সাইক্লোনের মতো যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহ করবে এই উপগ্রহ, যার ফলে প্রশাসনের পক্ষে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া আরও সহজ হবে। রানিগঞ্জের ছেলের এই অনন্য সাফল্যে গর্বে বুক ফুলে উঠেছে গোটা রাজ্যবাসীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *