ইউএস ওপেনে মহাপ্রলয়! একের পর এক মহাতারকার বিদায়ে টেনিস বিশ্বে চরম হাহাকার

ফ্ল্যাশিং মিডোজে সবসময়ই চরম স্নায়ুর লড়াই দেখা যায়। কিন্তু এবারের ইউএস ওপেনের শুরুতেই সম্পূর্ণ অন্য ছবি ধরা পড়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হতে না হতেই বদলে গিয়েছে টুর্নামেন্টের সমীকরণ। একদিকে যেমন তারুণ্যের দাপট চলছে, তেমনই অন্যদিকে ঘটে চলেছে একের পর এক অঘটন। খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমে প্রতিষ্ঠিত তারকারা রীতিমতো খাবি খাচ্ছেন। পুরুষদের সিঙ্গলসে একের পর এক রথী-মহারথীর বিদায় দেখে মনে হচ্ছে এটি যেন এক নিখাদ পালাবদলের মঞ্চ, যেখানে নতুন প্রজন্মের টেনিস তারকারা নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া।
খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে কোকো গফ
মার্কিন টেনিসপ্রেমীদের মূল নজর এখন বিশ্বের চার নম্বর তারকা কোকো গফের দিকে। স্পেনের পাউলা বাদোসার বিরুদ্ধে তাঁর ম্যাচ ঘিরে গ্যালারিতে ছিল বিপুল উন্মাদনা। দর্শকদের হতাশ করেননি গফ। কোর্টের বেসলাইনে দাঁড়িয়ে চলল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও নিখুঁত রক্ষণ। প্রথম সেটে ৬-৪ গেমে জয়ের পর দ্বিতীয় সেটে মরিয়া হয়ে ওঠেন বাদোসা। ব্রেক পয়েন্ট আদায় করে ম্যাচ টেনে নিয়ে যান টাইব্রেকারে। তবে গফের নিখুঁত ব্যাকহ্যান্ড এবং ঘরের মাঠের সমর্থকদের চিৎকারের সামনে শেষরক্ষা হয়নি। ৬-৪, ৭-৬(৫) গেমে ম্যাচ জিতে তৃতীয় রাউন্ডে পা রেখেই তিনি বাকিদের কড়া বার্তা দিয়ে দিলেন যে, নিউ ইয়র্কের দর্শকদের সামনে তাঁকে হারানো মোটেও সহজ নয়।
পুরুষদের ড্র-তে অঘটনের ঝড়
মহিলাদের সিঙ্গলসে ফেভারিটরা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখলেও, পুরুষদের ড্র-তে একের পর এক বড় অঘটনের দেখা মিলেছে। টেনিসপ্রেমীদের অবাক করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ বাছাই অ্যালেক্স ডি মিনাউর। নেদারল্যান্ডসের বোটিক ভ্যান ডি জান্ডশুল্পের কাছে সরাসরি সেটে হেরে ছিটকে গেছেন তিনি। ৬-৪, ৭-৫, ৬-২ গেমে লড়াই জিতে নেন বোটিক। তাঁর আগ্রাসী বেসলাইন উইনারের সামনে মাথা নোয়াতে বাধ্য হন মিনাউর। অন্যদিকে, তৃতীয় বাছাই ফেলিক্স অগার-আলিয়াসিমও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছেন। কারেন খাচানভের বিরুদ্ধে লড়াই চলার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ম্যাচ ছাড়েন এই কানাডিয়ান তারকা।
মনফিসের বিদায়বেলায় তারুণ্যের জয়
টুর্নামেন্টের আরেকটি বড় অঘটন ঘটেছে বাইরের কোর্টে। ফরাসি কিংবদন্তি গায়েল মনফিসকে সরাসরি সেটে হারিয়ে দিয়েছেন আমেরিকার চৌদ্দ নম্বর বাছাই টিনএজার লার্নার তিয়েন। ৬-৩, ৬-৪, ৬-৩ সেটে সহজ জয় তুলে নেন তিনি। এটাই ছিল মনফিসের কেরিয়ারের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম। ফরাসি তারকার সামনে নিখুঁত বেসলাইন শটে রীতিমতো আধিপত্য দেখিয়ে এই মার্কিন তরুণ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকার টেনিস জগতের পরবর্তী বড় সেনসেশন হয়তো তিনিই হতে চলেছেন।
স্বমহিমায় রিবাকিনা ও শিয়নটেক
এতকিছুর পরেও হেভিওয়েটদের দাপট একেবারে ফুরিয়ে যায়নি। দ্বিতীয় বাছাই এলেনা রিবাকিনা মাত্র এক ঘণ্টার একটু বেশি সময়ে জেসিকা বোজাস মানেইরোকে ৬-২, ৬-৩ গেমে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর আগুনে সার্ভ এবং ফ্ল্যাট গ্রাউন্ডস্ট্রোকের সামনে টিকতেই পারেননি বিপক্ষ। অন্যদিকে, অষ্টম বাছাই ইগা শিয়নটেকও উপহার দিয়েছেন নিখুঁত টেনিস। তাঁর রিটার্ন গেমের সামনে খেই হারিয়ে নাদিয়া পোডোরোস্কা হেরে গেছেন ৬-৩, ৬-২ সেটে। এছাড়া প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন নাওমি ওসাকাও চেনা ছন্দে ফিরেছেন। দ্বিতীয় সেটে হোঁচট খেলেও কাতেরিনা সিনিয়াকোভাকে ৬-২, ৫-৭, ৬-১ সেটে হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডের টিকিট পাকা করেছেন তিনি।
নজরে মেগা তৃতীয় রাউন্ড
এবার সকলের নজর রয়েছে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর তৃতীয় রাউন্ডের হাই-ভোল্টেজ লড়াইগুলির দিকে। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের উজ্জ্বল আলোয় চিনের উ ইয়িবিংয়ের মুখোমুখি হবেন কার্লোস আলকারাজ। জেসিকা পেগুলার সামনে থাকছেন লেইলা ফার্নান্দেজ। পেগুলার নিখুঁত বল-স্ট্রাইকিং বনাম ফার্নান্দেজের আবেগপ্রবণ কোর্ট-ক্রাফ্টের লড়াই দেখতে মুখিয়ে রয়েছে বিশ্ব। আর শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কা লড়বেন কামিলা রাখিমোভার বিরুদ্ধে। প্রথম সপ্তাহের খেলা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কোর্টে নামার পর অতীত রেকর্ডের আর বিন্দুমাত্র দাম থাকে না। নতুনদের এই দাপটে আগামী দিনে টেনিসের ভবিষ্যৎ নতুন করে লেখা হবে কি না, তার উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।